শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লেজার প্রযুক্তির অস্ত্র মোতায়েন, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য জাতিসংঘে সানগ্লাস পরে কেন বক্তব্য দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখঢাকা নিষিদ্ধ ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সায় ট্রাম্পের প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে প্রেস ব্রিফিং আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক মেসির বিদায়ী ম্যাচ, ২ ঘণ্টাতেই শেষ সব টিকিট ইরানের যে প্রযুক্তি প্রতিপক্ষের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ইসলামে সন্তানকে ত্যাজ্য করা কি জায়েজ?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১১৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : ইসলামে ‍নিজের সন্তানকে ত্যাজ্য করা বা তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ নিজের কোনো সন্তানকে মৌখিকভাবে লিখিতভাবে ত্যাজ্য করলে ইসলামি আইনে তা বাস্তবায়িত হয় না। তার মৃত্যুর পর ত্যাজ্য সন্তানও অন্যান্য সন্তানদের মতোই তার পরিত্যক্ত সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়।

বাবা যদি বিশেষ কোনো সন্তানকে তার পরিত্যাক্ত সম্পদ না দেওয়ার মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা দিয়ে মারা যান, তাহলেও তার ওই নির্দেশনা কার্যকর করা যায় না। কারণ মিরাস বা মৃতের পরিত্যক্ত সম্পদ কে কতটুকু পাবে তা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কারো নির্দেশনা বা কথার কারণে আল্লাহর বিধান পরিবর্তিত হয় না।

কোনো সন্তানকে পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে জীবিত অবস্থায় পুরো সম্পদ অন্যান্য সন্তানদের নামে লিখে দেওয়াও ইসলামের দৃষ্টিতে গুনাহের কাজ। উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলাম সন্তানদের মধ্যে সমতা রক্ষা করার নির্দেশ দেয়। নবিজি (সা.) সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য করে উপহার দেওয়াকে ‘জুলুম’ বলেছেন। নোমান ইবনে বশির (রা.) বলেন, একবার আমার বাবা আমার মায়ের অনুরোধে আমাকে কিছু সম্পদের মালিক বানিয়ে দিতে চাইলেন। তখন মা বললেন, এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসুলকে (সা.) সাক্ষী রাখুন। আমি তখন ছোট বালক। বাবা আমার হাত ধরে আল্লাহর রাসুলের (সা.) কাছে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, তার মা তাকে দেওয়া সম্পদের জন্য আপনাকে সাক্ষী রাখতে চাচ্ছেন। রাসুল (সা.) বললেন, এই ছেলে ছাড়া কি তোমার আরও সন্তান আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবিজি (সা.) বললেন, তাদের সবাইকে কি তুমি এ পরিমাণ সম্পদ দিয়েছ?তিনি বললেন, না। রাসুল (সা.) বললেন, তাহলে এ ক্ষেত্রে আমাকে সাক্ষী রেখো না। আমি জুলুমের সাক্ষী হতে চাই না। (সহিহ মুসলিম: ১২৪৩)

কোনো সন্তান যদি বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়, শরিয়তের বিধি-বিধানের প্রতি যত্নবান না হয়, গুনাহের পেছনে সম্পদ ব্যয় করে, তবুও তাকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা যাবে না। বরং তার সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। তার হেদায়াতের জন্য দোয়া করতে হবে।

ইসলামে যে কোনো রকম আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম। বাবা-মায়ের জন্য সন্তানের সঙ্গে বা সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাও হারাম। মুমিনের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন,

وَ الَّذِیۡنَ یَصِلُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰهُ بِهٖۤ اَنۡ یُّوۡصَلَ وَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّهُمۡ وَ یَخَافُوۡنَ سُوۡٓءَ الۡحِسَابِ

আর আল্লাহ যে সম্পর্ক অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তা অটুট রাখে এবং তাদের রবকে ভয় করে, আর মন্দ হিসাবের আশঙ্কা করে। (সুরা রা’দ: ২১)

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, আত্মীয়তার হক আদায় না করা কাফের ও পাপাচারীদের বৈশিষ্ট্য। কোরআনে আল্লাহ তাআলা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের সাবধান করে বলেছেন,

الَّذِیۡنَ یَنۡقُضُوۡنَ عَهۡدَ اللّٰهِ مِنۡۢ بَعۡدِ مِیۡثَاقِهٖ وَ یَقۡطَعُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰهُ بِهٖۤ اَنۡ یُّوۡصَلَ وَ یُفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ اُولٰٓئِكَ هُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২১ ডিসেম্বর ২০২৪,/রাত ১১:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit