নেত্রকোণা শান্তা ইসলাম প্রতিনিধি : নেত্রকোণা সদর উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের চুচুয়া বাজার এলাকায় মারাদিঘী গোলাম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্যে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেওয়া ফার্নিচার বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে পুরো ফার্নিচার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মারাদিঘী গোলাম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর নেত্রকোণা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানান, নেত্রকোণা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২৩ সালে ১৫ জুন টেন্ডার নোটিশের মাধ্যমে ৮লাখ ৯হাজার ৮৯৭ টাকার অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ফার্নিচারের তৈরীর কাজ পায় জেলা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার মেসার্স এটি এন্টারপ্রাইজ। অভিযোগে প্রকাশ ৩লাখ ৫০হাজার ৪শত টাকার ফার্নিচার পেয়েছে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। বাকী ফার্নিচারের জন্যে মারাদিঘী গোলাম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বারবার ফোনালাপ ও সাক্ষাৎ করলে ফার্নিচার দেই দিচ্ছি বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সময় ক্ষেপণ করে আসছেন বলে জানান।
মারাদিঘী গোলাম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ফার্নিচার বাবদ নেত্রকোণা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক অর্থ বরাদ্দ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এটি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রকোণা সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মারুফ হাসান খান অভ্র জেল হাজতে থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেওয়া ফার্নিচার বাবদ বরাদ্দকৃত টাকা প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মহোদয়ের জিম্মায় রয়েছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, এটি মিথ্যা বানোয়াট তথ্য। শতভাগ সততার সহিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি জানান।
রোববার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে মারাদিঘী গোলাম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে আমরা জানতে পেরেছি নেত্রকোণা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীকে টাকা বুঝিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, ফার্নিচার তৈরীর কাজ পাওয়া মেসার্স এটি এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মোঃ মনোয়ার হোসেন গত ১৫ দিন হয়েছে বলেছিলেন ১ সপ্তাহের মধ্যে বাকী ফার্নিচার দিবেন কিন্তু অদ্যাবধি দেননি।
আমরা স্টাফ কাউন্সিল মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার। এব্যাপারে জানতে চাইলে নেত্রকোণা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল কবির জানান, নেত্রকোণা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মারাদিঘী গোলাম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ফার্নিচার বাবদ অর্থ বরাদ্দ বুঝিয়ে দিয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্থ বরাদ্দ বুঝিয়ে পেয়ে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে ফার্নিচার দিয়েছে এইমর্মে লিখিত দিয়েছেন।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ ডিসেম্বর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:৩৩