স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেট মাঠে স্লেজিংকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের হার না মানসিকতার প্রমাণ মেলে তাদের করা স্লেজিংয়েও। প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে বা চটিয়ে দিয়ে ফাউদা লুটতে ওস্তাদ অজিরা। বাকি বড় দলগুলোও পিছিয়ে নেই। বিরাট কোহলি, স্টিভ স্মিথদের প্রায়ই প্রতিপক্ষকে বাক্যবাণে বিধ্বস্ত করতে দেখা যায়। মাঠে তাদের আগ্রাসন প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছে অনেকবারই।
এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের যুবাদের মধ্যেও সেই আগ্রাসনের দেখা মিলেছে। কথার লড়াইয়ে জড়াতে বা স্লেজিংয়ে পিছপা হননি আজিজুল হক তামিম, দেবাশীষরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালের কথাই ধরা যাক। সেদিন পাকিস্তানি পেসারের একটা বাউন্সার ঠিকঠাক খেলতে পারেননি আজিজুল হক তামিম। সঙ্গে সঙ্গে বোলার তাকে প্রশ্ন করেন, ‘বল দেখেছিস?’
পরের বলেই জবাবটা ব্যাটে দিয়েছেন তামিম। ছক্কা মেরে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘তোমরা বল দেখেছ?’ এভাবেই কথার লড়াইয়ে জড়িয়েছে জুনিয়র টাইগাররা। স্লেজিংয়ে প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাস নাড়িয়ে দিয়েছে। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষেও আগ্রাসন দেখা গেছে জুনিয়র টাইগারের মধ্যে। স্লেজিংয়ে মত্ত ছিল দুই দলই। এমনকি মাঠের দর্শকরাও বাদ যাননি। এর আগে ২০২০ সালের যুব বিশ্বকাপের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ। সে ম্যাচেও যশস্বী জয়সওয়াল, রবি বিষ্ণয়ীদের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়েছিলেন তানজিম সাকিব, শরিফুল ইসলামরা।
এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া আজিনুল হক তামিম মনে করেন, এই আগ্রাসন স্লেজিং মাঠের খেলায় প্রভাব রাখে। ম্যাচ জিততে এসবের প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই নতুন তামিম বলেন, ভালো দলের বিপক্ষে খেললে স্লেজিং হয়। ওরাও করেছে, আমরাও করেছি। জিততে গেলে একটু স্লেজিং, এগ্রেশন দরকার আছে।’স্লেজিং ও আগ্রাসনের চরম প্রদর্শণী দেখা গেছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা এবং ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষও বাংলাদেশি যুবাদের তীক্ষ্ণ বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছে। প্রতিপক্ষের স্লেজিংয়ের চাপ কীভাবে সামলিয়েছেন জুনিয়র টাইগাররা?
‘জিততে হলে কে সামনে কে পেছনে দেখার দরকার নেই, তোরা খেলতে থাক। এক্সাইটমেন্ট, এগ্রেশনের সময় বলছিলাম ঠাণ্ডা থাক, আল্লাহ ভরসা।’ -তামিমের জবাব। তবে তামিমদের যাত্রা সবে শুরু। সামনে আরও একটা এশিয়া কাপ, এরপর যুব বিশ্বকাপ। যুব দলের সাফল্য সিনিয়র ক্রিকেটে ফুটিয়ে তোলার চাপ তো আছেই। হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তো আছেই। তবে আশাবাদী এই তরুণরা। তামিম বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ এর পর এইচপি, টাইগার্স, বিপিএল… বিসিবি অনেক কিছুই করে আমাদের জন্য। আমাদের খেলোয়াড়রাও যে পিছিয়ে এমন না। জাতীয় দলের বেশিরভাগই এখন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের।’
কিউএনবি/আয়শা/১০ ডিসেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৫:০২