শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আবারও পেছানো হলো আয়াতুল্লাহ খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত এটি গণমানুষের বাজেট : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদ্-দ্বীনের রোগীদের ৬ হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা অভিবাসন কমাতে বড় সিদ্ধান্তের পথে সুইজারল্যান্ড, নজিরবিহীন গণভোটের আয়োজন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে মামলা বিশ্বকাপে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন যারা রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : রয়টার্স ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্তে হতবাক নেতানিয়াহু, জানতেন না কিছুই! ‘নিজের চেষ্টায় উন্নত হতে হবে’, চীনের উদাহরণ টানলেন মির্জা ফখরুল

দুটি অঙ্গের গুনাহে বেশি মানুষ জাহান্নামি হবে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৫১ Time View

ডেস্ক নিউজ : আমাদের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহ প্রদত্ত মহামূল্যবান নিয়ামত। এগুলোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি ও শোকর আদায় করতে পারি। আবার এগুলোর তাড়নায় কিংবা এগুলোর বেঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের বড় ধরনের বিপদ হতে পারে।

এ কারণে মহানবী (সা.) আমাদের এগুলোর অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, বিশেষ করে দুটি অঙ্গের অপব্যবহারের কারণে বহু মানুষ জাহান্নামে চলে যাবে।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন কর্মটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আল্লাহভীতি, সদাচার ও উত্তম চরিত্র। আবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, মুখ ও লজ্জাস্থান। (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৪)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, সাহাল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ‌ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দুই ঊরুর মাঝখানের বস্তুর (লজ্জাস্থান) জামানত আমাকে দেবে, আমি তাঁর জান্নাতের জিম্মাদার। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৪)

উল্লিখিত হাদিসগুলোতে রাসুল (সা.)-এর দুটি অঙ্গের ব্যাপারে তাঁর প্রিয় উম্মতদের সতর্ক করেছেন। এবং যে অঙ্গগুলো দ্বারা গুনাহ সংঘটিত হয়, এগুলো তার অন্যতম বলে নির্ণয় করেছেন।

মুখ দ্বারা মানুষ মিথ্যা বলে, গিবত করে, গালি দেয়, ধমক দেয়, হারাম খায় ও অপবাদ দেয়।

এ কারণে আল্লাহর রাসুল (সা.) এই অঙ্গের সঠিক ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুল (সা.) বলেছেন, যে আল্লাহ এবং শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে নতুবা চুপ থাকে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে।
(বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৫)

মানুষের এই ছোট অঙ্গটি এতটাই শক্তিশালী যে এর থেকে বের হওয়া একটি শব্দের কারণে অনেক বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।

তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত এই অঙ্গটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন যে নিশ্চয়ই বান্দা পরিণাম চিন্তা ব্যতিরেকেই এমন কথা বলে যে কথার কারণে সে ঢুকে যাবে জাহান্নামের এমন গভীরে, যার দূরত্ব পূর্ব (পশ্চিম)-এর দূরত্বের চেয়েও বেশি। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৭)

রাসুল (সা.) যে দুটি অঙ্গ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, তার মধ্যে দ্বিতীয় অঙ্গটি হলো লজ্জাস্থান। পবিত্র কোরআনে যারা অঙ্গটির হেফাজত করে, তাদের সফল বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘(অবশ্যই সফল হয়েছে মুমিনগণ)… আর যারা তাদের লজ্জাস্থানকে সংরক্ষিত রাখে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৫)

অর্থাৎ প্রকৃত মুমিনের গুণ হলো, যৌনাঙ্গকে হেফাজত করা। তারা নিজের দেহের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখে। অর্থাৎ উলঙ্গ হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং অন্যের সামনে লজ্জাস্থান খোলে না। আর তারা নিজেদের লজ্জাস্থানের সততা ও পবিত্রতা সংরক্ষণ করে। অর্থাৎ যৌন স্বাধীনতা দান করে না এবং কামশক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে লাগামহীন হয় না। অর্থাৎ যারা স্ত্রী ও (হালাল) দাসীদের ছাড়া সব পরনারী থেকে যৌনাঙ্গকে হেফাজতে রাখে এবং এই দুই শ্রেণির সঙ্গে শরিয়তের বিধি মোতাবেক কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করা ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে কোনো অবৈধ পন্থায় কামবাসনা পূর্ণ করতে প্রবৃত্ত হয় না। কারণ অবৈধ পদ্ধতিতে কামবাসনা পূর্ণ করা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ। আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে কোন গুনাহটি সবচেয়ে বড়? তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ আমি বললাম, এটি অবশ্যই বড় গুনাহ। এরপর কোনটি? তিনি বলেন, ‘তোমার সন্তান তোমার সঙ্গে খাবে এই ভয়ে তাকে হত্যা করা।’ আমি বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বলেন, ‘এরপর তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে জিনা করা।’ (বুখারি, হাদিস : ৭৫২০)

মহান আল্লাহ সবাইকে এ দুটি অঙ্গের গুনাহ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন।

কিউএনবি/অনিমা/০২ ডিসেম্বর ২০২৪,/রাত ৮:২৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit