রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

খ্রিষ্টান পাদ্রির কথায় ইসলাম গ্রহণ করেন যে সাহাবি

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৮৯ Time View

ডেস্ক নউজ : তিনি বলেন, আমি তখন বসরার বাজারে। একজন খ্রিষ্টান পাদরিকে ঘোষণা করতে শুনলাম, ‘হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, এই বাজারে মক্কার কোনো লোক আছে?’ আমি কাছেই ছিলাম। দ্রুত কাছে গিয়ে বললাম, ‘হ্যাঁ, আমি মক্কার লোক।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কি আহমদ আত্মপ্রকাশ করেছে?’ বললাম, ‘কোন আহমদ?’ তিনি বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের ছেলে। তিনি হবেন শেষ নবী। তিনি হিজরত করবেন কালো পাথর আর খেজুর উদ্যানবিশিষ্ট একটি ভূমির দিকে। যুবক তোমার উচিত খুব তাড়াতাড়ি তাঁর কাছে যাওয়া।’

হজরত তালহা (রা.) খুবই কৌতূহল অনুভব করতে লাগলেন। মক্কায় পৌঁছেই তিনি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সঙ্গে দেখা করে কালেমা শাহাদত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নানাভাবে অত্যাচারিত হন। মায়ের ইচ্ছা ছিল, তিনি হবেন গোত্রের নেতা। তার মা, আত্মীয়স্বজন ও গোত্রের লোকেরা তাকে ইসলাম থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য তার ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালান।
 
তবু তিনি ইসলাম প্রচারের কাজ চালিয়ে যান। মক্কার দারুল আরকামে কোরআন প্রশিক্ষণে তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। ইসলাম গ্রহণের পর দীর্ঘ ১৩ বছর অসীম ধৈর্যের সঙ্গে মক্কায় থাকার পর ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে অন্য মুসলিমদের সঙ্গে তিনিও মদিনায় হিজরত করেছিলেন। মক্কা বিজয়ের দিন তালহা (রা.) রসুলুল্লাহ (স.)-এর সঙ্গে কাবা শরিফে প্রবেশ করেন। ঐতিহাসিক বিদায় হজের সময়ও তিনি রসুলুল্লাহ (স.)-এর সঙ্গে ছিলেন। এই সফরে একমাত্র রসুলুল্লাহ (স.) ও তালহা (রা.) ছাড়া আর কারও সঙ্গে কোরবানির পশু ছিল না।
 
তালহা (রা.) ছিলেন ভালোবাসা আর আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ একজন সাহাবি। তাবুক যুদ্ধে কাব ইবনে মালিক (রা.) অংশগ্রহণ না করায় রসুলুল্লাহ (স.) খুব নাখোশ হন। কাব ইবনে মালিক (রা.) নিজেও খুব অনুতপ্ত ছিলেন। পরে আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন তাকে ক্ষমা করে আয়াত নাজিল হয়, তখন তালহা (রা.) সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে ছুটে যান এবং জড়িয়ে ধরেন। হজরত কাব (রা.) বলেন, ‘আমি তালহার সে ব্যবহার কখনোই ভুলব না।’ কাব (রা.)–এর সেই কঠিন মনখারাপের সময়টায় এভাবেই তালহা (রা.) তার কাছে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
 
হজরত তালহা (রা.) ছিলেন বিত্তশালী ব্যবসায়ী। তার সম্পদ থেকে প্রচুর সম্পদ তিনি ইসলামের পথে দান করেছেন। ইতিহাসে তিনি ‘দানশীল তালহা’ নামেও পরিচিত। রসুল (স.)-এর ইন্তেকালের পর হজরত আবু বকর (রা.) ও ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে তিনি তাদের চিন্তা, পরামর্শ ও কাজে সাহায্য করতেন।
 
হজরত উসমান (রা.)-এর হত্যাকাণ্ডের পর ৩৬ হিজরিতে ইবনে সাবা নামে এক ইহুদির চক্রান্তে সংঘটিত হয় ‘উটের যুদ্ধ’। তাতে সাবায়িদের ছোড়া একটি তির হজরত তালহার পায়ে এসে বেঁধে। ক্ষত প্রচুর রক্তক্ষরণে তার শরীর রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। ৬৪ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ নভেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৫:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit