স্পোর্টস ডেস্ক : শনিবার (১৯ অক্টোবর), দিনটি ইতিহাস হয়ে থাকবে সরফরাজের জন্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম শতক। এমন একটি দিনের জন্য কতই না পরিশ্রম করেছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেও জাতীয় দলে অবহেলিত ছিলেন। বারবার প্রমাণ করেও মিলছিল না সুযোগ।
শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের শুরুতে অভিষেক হয়। আর ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট ম্যাচটি খেলতে নেমেই হাঁকান দারুণ এক সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান বেঙ্গালুরু টেস্টের চতুর্থ দিনে মাঠ ছাড়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৫০ রান। ১৯৫ বলে ১৮ চার ও ৩ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। ৩৫৬ রানে পিছিয়ে থেকে ইনিংস শুরু করা দলের লিড তখন ৫২ রানের।
সরফরাজ খানের সেঞ্চুরির পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টটি করেন ইয়ান বিশপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার লেখেন, ‘সরফরাজ খানের জন্য নিখাদ আনন্দ। নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি সে যতটা উপভোগ করেছে, তার সতীর্থরাও ততটাই উপভোগ করায় ভালো লেগেছে। কখনো হাল ছেড়ো না। নিজের কাজটা করে যাও।’
তাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার লেখেন, ‘সরফরাজ খানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার কী দারুণ সময়, যখন ভারতের এটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।’সরফরাজ ক্রিকেট বিশ্বের নজর কাড়েন মাত্র ১২ বছর বয়সেই। ২০০৯ সালে হ্যারিস শিল্ডের একটি ম্যাচে ৪৩৯ রান করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। যেখানে ৭৬ ইনিংসে ৬৯.০৯ গড়ে ১৫ সেঞ্চুরি ও ১৪ ফিফটিতে ৪৪২২ রান করেছেন তিনি। ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছেন দুবার। যুবাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৫৬৬ রান তার। তার আগে রয়েছেন শুধু ইয়ন মর্গান ও বাবর আজম।
কিন্তু নিজেকে বারবার প্রমাণ করেও সুযোগ হচ্ছিল না জাতীয় দলে। ২০২২ সালে বাংলাদেশ সিরিজে তাকে সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সফর তো দূর, পরের অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও সুযোগ পাননি। তাতে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন তিনি। সেই সময় রঞ্জিতে একটি ম্যাচের পর বলেছিলেন, ‘গত রঞ্জির ফাইনালে সেঞ্চুরির পরে নির্বাচকদের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। বলেছিলেন, বাংলাদেশ সফরে সুযোগ পাব। তৈরি থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু পাইনি।’ তৎকালীন নির্বাচক প্রধান চেতন শর্মার কথাও টেনে এনেছিলেন সরফরাজ। বলেছিলেন, ‘কয়েক দিন আগেই চেতন স্যারের সঙ্গে দেখা হলো। উনি বললেন, আমি খুব তাড়াতাড়ি সুযোগ পাব। নির্বাচকেদের কথায় বার বার আশা জাগছে। কিন্তু বার বার হতাশ হচ্ছি। এভাবে আগে থেকে আশা জাগানো ঠিক নয়।’
সেসব দিন পেছনে ফেলে এসেছেন সরফরাজ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২৬ বছর ১১৬ দিন বয়সে অভিষেক হয় তার। গত ১৫ ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন তিনি। সতীর্থদের মাঝে দাঁড়িয়ে অনিল কুম্বলের হাত থেকে টেস্ট অভিষেকের টুপি নিয়েছিলেন সরফরাজ। অভিষেক ম্যাচেই আলো কেড়েছিলেন। দুই ইনিংসে দুটি ফিফটি হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবশ্য পরের দুই ম্যাচে সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। এরপর বাংলাদেশের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে একাদশের বাইরে রাখা হয় তাকে। তাতে শঙ্কা জাগে জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার। তবে নিউজিল্যান্ড সিরিজে ফের একাদশে ফিরে সরফরাজ প্রমাণ করলেন তিনি হারিয়ে যাওয়ার জন্য আসেননি।
সরফরাজের ১৫০ রানের ইনিংস ছাড়াও ভারতকে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাট হাতে সাহায্য করেছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, রিশাভ পন্ত। রোহিত ৫২, কোহলি ৭০ আর পন্ত ৯৯ রানে আউট হন।
কিউএনবি/আয়শা/১৯ অক্টোবর ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:৫০