শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

কারো সঙ্গে দেখা হলে করণীয়

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ৬২ Time View

ডেস্ক নিউজ : আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় কাউকে ভালোবাসা তার সঙ্গে দেখা সাক্ষাত করা সওয়াবের কাজ। নিঃস্বার্থভাবে কাউকে ভালোবাসলে আল্লাহর সন্তুষ্টি আশায় তাকে দেখলে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া যায়। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাক্ষাতের জন্য অন্য এক গ্রামে গেল। আল্লাহ তাআলা তার জন্য পথিমধ্যে একজন ফিরিশতা নিযুক্ত করলেন। সে ব্যক্তি যখন ফিরিশতার কাছে পৌঁছল, তখন ফিরিশতা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছো? সে বলল, আমি এ গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য যেতে চাই। ফিরিশতা বলেন, তার কাছে কি তোমার কোনো অবদান আছে, যা তুমি আরো প্রবৃদ্ধি করতে চাও? সে বলল, না। আমি তো শুধু আল্লাহর জন্যই তাকে ভালোবাসি। ফিরিশতা বলেন, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে (তাঁর দূত হয়ে) তোমার কাছে অবহিত করার জন্য এসেছি যে, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন, যেমন তুমি তোমার ভাইকে তাঁরই সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ভালোবেসেছ।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৪৩)

নিম্নে কোনো মুমিনের সঙ্গে সাক্ষাতকালে পালনীয় কিছু সুন্নত তুলে ধরা হলো,

সালাম করা : কারো সঙ্গে সাক্ষাত হলে তার সঙ্গে কুশল বিনিময়ের অন্যতম সুন্নত হলো, সহি-শুদ্ধভাবে সালাম করা। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করে, তখন সে যেন তাকে সালাম দেয়। অতঃপর দু’জনের মাঝে যদি গাছ, দেয়াল বা পাথর আড়াল হয়ে যায় এবং তারপর আবার সাক্ষাত হয়, তাহলেও যেন তাকে সালাম দেয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২০০)
অন্য হাদিসে নবীজি (সা.) মুসলমানের ওপর মুসলমানের ছয়টি অধিকারের কথা বলেছেন, তার মধ্যে প্রথমটি হলো সাক্ষাত হলে সালাম দেওয়া। (মুসলিম, হাদিস : ৫৫৪৪)

মুসাফাহা করা : কারো সঙ্গে সাক্ষাত হলে কুশল বিনিময়ের আরেকটি সুন্নত হলো, সুন্নত পদ্ধতিতে মুসাফাহা করা। এবং তাকে যথাযথ সম্মান করা ও গুরুত্ব দেওয়া। আনাস ইবনু মালিক (রা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাক্ষাতে এসে মুসাফাহা (করমর্দন) করত, তখন সেই ব্যক্তি তার হাত টেনে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের হাত টেনে নিতেন না। আর সে তার চেহারা ফিরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি ওই ব্যক্তি থেকে নিজের চেহারা ফিরিয়ে নিতেন না। তিনি কখনো তাঁর পা দুটি তাঁর সামনে বসা লোকদের দিকে প্রসারিত করতেন না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯০)

মুসাফাহার মাধ্যমে মহান আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া যায়। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, দুজন মুসলিম পরস্পর মিলিত হয়ে মুসাফাহা করলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (আবু দাউদ, হাদিস ৫২১২)

হাসিমুখে কথা বলা : আবু জার (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) আমাকে বলেছেন, ভালো কোনো কিছু দান করাকে হীন মনে করে না, এমনকি হোক সেটা ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাত দেওয়া।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৮৪)

ভালো কথা বলা : কুশল বিনিময়ের অন্যতম একটি সুন্নত হলো, ভালো কথা বলা। অহেতুক কথা বর্জন করা। প্রিয় নবী (সা.) ভালো কথা বলাকে সদকা বলে আখ্যা দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন যে, মানুষের প্রত্যেক জোড়ার প্রতি সদকা রয়েছে, প্রতি দিন যাতে সূর্য উদিত হয় দু’জন লোকের মাঝে সুবিচার করাও সদকা, কাউকে সাহায্য করে বাহনে আরোহণ করিয়ে দেওয়া বা তার উপরে তার মালপত্র তুলে দেওয়াও সদকা, ভালো কথাও সদকা, সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে পথ চলায় প্রতিটি কদমেও সদকা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করাও সদকা।’ (বুখারি, হাদিস : ২৯৮৯)

কিউএনবি/অনিমা/৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/সকাল ১০:২১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2025
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৩
IT & Technical Supported By:BiswaJit