স্পোর্টস ডেস্ক : গত ৫ আগস্ট আদাবরে নিহত হন পোশাক কারখানার শ্রমিক মো: রুবেল। এই ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা রফিকুল ইসলাম। সেই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকেকেই আসামী করা হয়েছে। যেখানে নাম আছে সাকিবেরও। হত্যা মামলা হওয়ার পর সাকিবকে জাতীয় দল থেকে বাদ দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিসিবিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান এক আইনজীবী।
তবে মামলা হওয়ার পরও দিব্যি খেলে চলেছেন সাকিব। বিসিবির নতুন সভাপতি ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত জাতীয় দিলের দরজা সাকিবের জন্য খোলা। প্রয়োজনে এই অলরাউন্ডারকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। এই মুহূর্তে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে দেশটিতে দলের সঙ্গেই আছেন সাকিব।
তবে বাংলাদেশের পরবর্তী সিরিজ আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। সেই সিরিজটির ভেন্যু বাংলাদেশে হওয়ায় খেলতে চাইলে দেশে ফিরতেই হবে সাকিবকে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, দেশে ফিরলে কি সাকিবকে গ্রেফতার করা হবে? অনেকেই মনে করে মামলা হওয়ার কারণেই পাকিস্তান সিরিজের পর দেশে না ফিরে কাউন্টি খেলতে ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন সাকিব।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, তদন্ত ছাড়া কাউকেই গ্রেফতার বা হয়রানি করা হবে না। গতকাল একই কথা ফের বলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
গতকাল মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাংলা সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাকিবের মামলার বিষয়ে কথা বলেছেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘মামলার কারণে সাকিব কিংবা জায়েদ খান, তাদের কারো সঙ্গে কি গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে? ঘটেনি। আমরা বারবার মানুষকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি, আমরা পুলিশকে বলেছি, ‘আপনারা বুঝানোর চেষ্টা করেন মানুষকে যে, মামলাতে আপনি যে অভিযোগ আনছেন সেটা বিশ্বাসযোগ্য কিনা।’
পুলিশের কাছ থেকে এবং আদালতের কাছ থেকে আমরা তথ্য পেয়েছি, যারা মামলা করতে আসে সেখানেও (পুলিশের ওপর) চাপ থাকে।’ সাকিবের বিরুদ্ধে মামলা জনগণ করেছে, রাষ্ট্র নয়- এমন মন্তব্যই করেছেন আসিফ নজরুল। তিনি এ বিষয়ে বলেন, ‘যখন কেউ মামলা করে, মামলা করাটা মানুষের অধিকার। ব্যক্তিগতভাবে একজন মামলা করে দিলো। এই মামলাগুলো পুলিশ করেনি, পুলিশ যদি করে তাহলে বুঝবেন এটার সঙ্গে রাষ্ট্র জড়িত আছে। এ মামলাগুলো ব্যক্তিগতভাবে করা হয়েছে।’
বিশ্বাসযোগ্য তথ্য না পেলে পুলিশ কাউকেই গ্রেফতার করবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি, একটা জিনিস সবাইকে বলার চেষ্টা করেছি, এফআইআর মানেই গ্রেফতার না। কিছু কিছু মানুষ যখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যে, এই মামলা তার নামে হওয়ার কথা না। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সঙ্গে কাজ করি। আমরা আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করি যে, পুলিশ বিশ্বাসযোগ্য তথ্য না পেলে আপনাদের গ্রেফতার করবে না।’
কিউএনবি/আয়শা/২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/রাত ৯:০০