এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় আওয়ামীলীগের করা আগের সেই বৈষম্য তালিকায় দেওয়া হচ্ছে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ১৫ টাকা কেজি চাল। একই তালিকায় দেওয়া হবে টিসিবির পণ্য। ফলে প্রকৃত গরীব অসহায়েরা এ সুবিধা থেকে বাদ পড়লেও সুবিধা পাচ্ছেন ধনী শ্রেণীর মানুষ।
সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের পুড়াপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, বিগত বছর গুলোতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের স্বজনপ্রীতি ও দলীয়প্রীতি নিয়ে করা তালিকাতেই খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি চাল বিক্রি করা হচ্ছে। সুবিধা ভোগীদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের স্ত্রী, ইউপি সদস্য, দলীয় নেতাকর্মী যারা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন (দরিদ্র নন) এমন ব্যক্তিরা এই খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল ও টিসিবি পণ্য পাচ্ছেন।
এদিকে শুধুমাত্র চেয়ারম্যান-মেম্বারদের লোক নন বা বিএনপি-জামায়াত সমর্থক অথবা আওয়ামী লীগ সমর্থক নন এ কারনে দরিদ্র বা অতি দরিদ্র হওয়া সত্বেও সরকারের এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত শতশত প্রকৃত দরিদ্র মানুষ। দীর্ঘদিন যাবৎ বঞ্চিতরা এবারও বঞ্চিত হচ্ছেন। ৬ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মতি শাহা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) গুঞ্জন বিশ্বাসের আহবানে উপজেলা পরিষদ হল রুমে এ উপজেলার সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকদের নিয়ে এক বৈসম্য বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় উপজেলার আইনশৃংখলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চুলচিরা আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন ৫ আগস্টের আগে যা হয়েছে সেটা মনে না রেখে আগামী দিনে সবাই মিলেমিসে বসবাস করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন সকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ১৫ টাকা কেজি চাল ও টিসিবির পণ্য তালিকায় ঘাপটি মেরে থাকা ধনীদের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত গরীবদের নাম তালিকা ভূক্ত করতে হবে। তারা বলেন তালিকাগুলো সংশোধন (রিশাপল) করে দলমতের উর্দ্ধে থেকে প্রকৃতভাবে যারা সুবিধা পাওয়ার যোগ্য তাদের তালিকা করে তারপর এসব সুবিধা প্রদান করতে হবে। সভায় উপস্থিত সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও বিষয়টি মেনে নেন। সেদিনের একমাস পর থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। অথচ তালিকা নূন্যতম সংশোধন করা হয়নি।
ধুলিয়ানী ইউনিয়নের শাহাজাদপুর গ্রামের বাবুল আক্তার বলেন, সকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ১৫ টাকা কেজি চাল সেই পুরানো আওয়ামীলীগের দলীয় নেতা-কর্মীরাই পাচ্ছেন। আবার দু একদিনের মধ্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হবে। এখানে স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি ছাড়াও রয়েছে ব্যাপক ঘাপলা। পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটিতেই শতাধিক কার্ড টিসিবির প্যাকেজ পণ্য চেয়ারম্যান-মেম্বার, পৌর কাউন্সিলর, ইউপি সদস্য, সচিব ও কর্মচারীরা তালিকার বাইরে রেখে দেন। পরে নিজেরা ডানহাত-বাহাত করে ক্রয় করে নেন। যা টিসিবির ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি আইনের পরিপন্থি।
এদিকে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রির সময় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বাক-বিতন্ডার খবর পাওয়া গেছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক ভাবে বলার পরও তালিকা সংশোধন করার কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান চলোমান সময়ে এসব বিক্রির সময় কোন কেন্দ্রে যদি গত ১৫ বছরে বঞ্চিতরা গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে পরিস্থিতি গোলযোগের সৃষ্টি হলে দায় কে নেবেন ?। সব দায় কি তখন স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে পার পাওয়া যাবে ? এমন প্রশ্ন স্থানীয় ভূক্তভোগীদের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আসুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
কিউএনবি/অনিমা/১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/রাত ৮:০০