ডেস্ক নিউজ : বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এমন চিত্রে দেখা মিলেছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানা মিঞা হাজী বাড়ি আশ্রয়কেন্দ্রে। এ আশ্রয়কেন্দ্রে ২৭টি পরিবারের ১১০ জন বানভাসি আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের পাশাপাশি আশ্রিত আছে গবাদিপশু।
এদিকে, নোয়াখালীতে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে পানিবন্দি থাকায় বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে নানা সংকট। বিশেষ করে টিউবওয়েলগুলো ডুবে যাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া বন্যায় চর্মরোগ ও ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগ বেড়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী আমির ফয়সাল জানান, গত ১২ ঘণ্টায় নোয়াখালী জেলায় বন্যার পানি কমেছে ২ সেন্টিমিটার। এছাড়া জেলায় বেড়েছে ডায়রিয়া ও সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে ১২৭ জন ডায়রিয়া ভর্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৪৩ জন ভর্তি রয়েছে। এছাড়া সাপের কামড়ে ৩৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এবং ৬ জন ভর্তি আছে।
নোয়াখালীর ৯টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলার ৮৭ ইউনিয়নের ১৪ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এছাড়া ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬১ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। চৌমুহনী খালের মুখ বন্ধ থাকায় বেগমগঞ্জের পূর্বাঞ্চল ও সেনবাগ উপজেলা মানুষ এখনও পানিবন্দি রয়েছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে ঘুরে ৪টি ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে পানি বিতরণ করা হচ্ছে। এই পর্যন্ত ২০ লাখ পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। ৩ হাজার জেরিক্যান বিতরণ করে এবং ট্রাকে করে ২ হাজার লিটার পানির ট্যাংক দিয়ে পানি সরবরাহ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য মতে, বন্যা এখন পর্যন্ত জেলা জুড়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর প্রাণিসম্পদের হিসাব অনুযায়ী, এবারের বন্যায় ১০৮টি খামারের প্রায় ২ লাখ পশু মারা গেছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন, জানান জেলায় ৮৫ হাজার ৩৭৯ টি পুকুর দীর্ঘ ও মাছের খামার ভেসে গেছে। ২৩ হাজার ৫৫ জন, মোট ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, নোয়াখালীর প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, এ বন্যা নোয়াখালী জেলা সড়ক বিভাগের ১২৩ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
নোয়াখালী কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক ড. মীরা রানী দাস জানান, নোয়াখালীতে ৩৮ হাজার ৪৫৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে ৬৪৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রোপাআমন ২৫ হাজার ৬০১ হেক্টর, রোপাআমন বীজতলা চার হাজার ৫৩৬ হেক্টর, আউশ চার হাজার ৫২১ হেক্টর, শরৎকালীন সবজি তিন হাজার ২১৬ হেক্টর, ফল বাগান ৪৩৭ হেক্টর, পানের বরজ ৫৭ হেক্টর, আখ ১৩ হেক্টর, আদা ২০ হেক্টর ও হলুদ ৫৫ হেক্টর ক্ষতি হয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/রাত ৮:০৮