শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম

চৌগাছায় বৃষ্টিতে বিল-খালে মাছ ধরতে বেড়েছে মাছ ধরার যন্ত্রের চাহিদা

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) ।
  • Update Time : শনিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৪
  • ২৬২ Time View

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) : কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বেড়ে গেছে মাছ ধরার যন্ত্রের চাহিদা। সময় এখন বর্ষাকাল। চলতি সপ্তাহে থেমে থেমেচলছে ঝুম বৃষ্টি। গ্রাম বাংলার মানুষে চিরচেনা চিত্র খাল-বিলে জমতে শুরু করেছে পানি। চারিদেক থৈ থৈ করছে বৃষ্টির পানি। মাছ ধরতে তাই বেড়েছে বাঁশ-বেত দিয়ে ফাঁদ তৈরি করা কারিগরদেরও। দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি কয়েকটি মাছ ধরার ফাঁদের নাম হলো হল চাঁই, টইয়া ও পলো, ঘুনি ইত্যাদি। ঝিলে ও বিলে পানি জমতেই এসব উপকরণের কদরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

মাছ শিকারের জন্য বছরের দুটি সময় এ সব উপকরণের বিক্রি বেড়ে যায়। যখন খালে-বিলে পানি কমে যায় তখন বাঁশের তৈরি এসব উপকরণ ব্যবহার করে মাছ ধরেন মানুষ। আবার যখন বর্ষা শুরু হয় তখনো মাছ ধরার জন্য বিক্রি বাড়ে। জানা যায়, উঁচু জমি থেকে পানি যখন সাধারণত নিচু জমিতে পড়ে তখন শিকারীরা বাঁধ দিয়ে ছোট একটা জায়গা করে ঘুনি, চাঁই বা আটুলে দিয়ে ফাঁদ পেতে রাখে। এতে করে ছোট-বড় সকল প্রকার মাছ এতে আটকে যায়। জায়গা এবং পানির প্রকারভেদে ঘুনির সাইজ ও বিভিন্ন আকৃতির ব্যবহার করতে হয়। আর পলো হচ্ছে আড়াই-তিনফুট লম্বাকৃতির গোলাকার উপকরণ। কম পানির জায়গায় পানির উপর থেকে পলো ফেলে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে মাছ ধরা হয়। সাধারণত পানি কমে গেলে মাছ ধরতে এর ব্যবহার বেশি হয়।

এক সময় বিভিন্ন স্থানে ঘুনি, চারই ও পলো দিয়ে মাছ ধরার প্রচলন ছিল বেশি। মাছ ধরার এসব বিশেষ ফাঁদ ঘুনি, চারই, দোয়াড় ও পলো তৈরি করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘুঁনি ও পলো আকারভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। এক একটি আটলী ২৫০-১০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ঘুঁনি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। প্রতিটি চারই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। শহরের কামিল মাদ্রাসার রোডে মাছ ধরার যন্ত্র বিক্রির হাট বসে। এইসব দোকান গুলোতে সারা বছরই মাছ ধরার বিভিন্ন যন্ত্র কিনতে পাওয়া যায়। শনিবার (৩ আগস্ট) চৌগাছা বাজারে মাছ ধরার যন্ত্র কিনতে আসেন মহেশপুর উপজেলার জাগুসা গ্রামের বাদল মন্ডল, তাদের এলাকার টিপির বিলের পানিতে নিয়মিত মাছ ধরেন। বর্ষার পানি বেড়ে যাওয়ার কারেন আরো কিছু ঘুঁনি ও চারই কিনতে এসেছেন তিনি।

চৌগাছা উপজেলার মাড়–য়া গ্রামের এনামুল, শহরের কুটিপাড়া এলাকার শহিদুল, ইলিশমারি গ্রামের শাহাজান জানায়, বর্ষার নতুন পানিতে দেখা মিলছে বিভিন্ন জাতের দেশি মাছ। মাছ ধরা তাদের নেশা। তাই মাছ ধরার জন্য ঘুঁনি-চারই কিনতে এসেছেন। তবে অন্য বারের তুলনায় এ বছর দাম অনেক বেশী। আরো কয়েকজন জানায় সম্প্রতি কপোতাক্ষ ও ভৈরব খননের ফলে নতুন মাটিতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ ধরা পড়ছে। সে জন্য জাল কিনতে এসেছেন। জগন্নাথপুর গ্রামের কাশেম আলী সরকারি চাকুরি করেন। বর্ষার পানিতে তার গ্রামের খাল-বিলে দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য শখের বসে তিনিও একটি ঘুঁনি কিনতে এসেছেন।

মাছ ধরার যন্ত্র বিক্রেতা সবুজ হোসেন জানান, বাঁশের তৈরি মাছ ধরার যন্ত্র আগের মতো বিক্রি হয় না। তবে বর্ষাকাল আসলে কিছুটা বিক্রি বাড়ে। মাছ ধরার যন্ত্র তৈরির উপকরন বাঁশের দাম বেশি। বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় তৈরি মজুরিও বেশি পড়ছে। যে কারণে মাছ ধরার যন্ত্রের দামও বেশি। তিনি বলেন, দাম বেশি হলেও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মাছ ধরার যন্ত্র বেচা বিক্রি বেড়েছে।

 

কিউএনবি/আয়শা/০৩ অগাস্ট ২০২৪,/রাত ৮:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit