স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে অতি নাটকীয় এক জয় পেলো বাংলাদেশ ‘এ’ দল। রেজাউর রহমান রাজা, রিপন মন্ডল, মারুফ মৃধার মত দ্রুত গতির বোলার কিংবা হাসান মুরাদের মত বাঁ-হাতি স্পিনার নন, বাংলাদেশ ‘এ’ দলের নাটকীয় জয়ের নায়ক অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান জয়।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে নিয়মিত বোলিং করলেও জাতীয় পর্যায়ে অনিয়মিত অফ স্পিনার জয় এ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অফস্পিন বোলিং দিয়েই পাকিস্তানীদের ঘায়েল করেন। আর তার স্পিন ঘূর্ণিতে ৫ রানের স্মরণীয় জয় পেয়েছে জুনিয়র টাইগাররা।
দুই ওপেনার সাহেবজাদা ফারহান আর হাসিবউল্লাহ আগের দিনই (রোববার) পাকিস্তান ‘এ’ দলকে জয়ের পথে অনেকদুর এগিয়েও দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের বোলারদের দলকে চাপে ফেলে তারা প্রথম উইকেটে তুলে দেন ৯৬ রান। সাহেবজাদা ফারহান ওয়ানডে মেজাজে হাত খুলে প্রায় বল পিছু রান করে বাংলাদেশের বোলার ও ফিল্ডারদের ব্যতিব্যস্ত রাখেন।
তারপর পেসার রেজাউর রহমান রাজা আঘাত হেনে পাকিস্তানীদের পিছনের পায়ে ঠেলে দেন। রাজার বলে পরপর শূন্য রানে ফেরেন দুই পাকিস্তানী কামরান গুলাম ও উমর আমিন।
কিন্তু অপর ওপেনার হাসিবউল্লাহ আর আর তায়েব তাহির আজ সোমবার চতুর্থ ও শেষদিন জয় বাহিনীর মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দেখা দেন। তবে ৪৪ রানে অপরাজিত হাসিবউল্লাহ সোমবার সকালেই ফিরে যান।
৬ উইকেট হাতে রেখে শেষদিন যে ১৬০ রান দরকার, পাকিস্তানীরা বুঝি তা অনায়াসে করে ফেলবে। এক সময় পাকিস্তানীদের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ২২০; কিন্তু ২২১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর হঠাৎ খেই হারিয়ে ফেলে পাকিস্তানীরা।
হঠাৎ বল হাতে জ্বলে ওঠেন অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান জয়। পাকিস্তান ‘এ’ দলের লেট অর্ডার ব্যাটিংয়ে রীতিমত ধ্বস নামে জয়ের বিষাক্ত অফস্পিনে। মাত্র ২১ রানে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসের অর্ধেকটার পতন ঘটান জয়। আর তাতেই ২৯৬ রান করতে গিয়ে ২৯০ রানে অলআউট হয় পাকিস্তানীরা।
বাংলাদেশ ‘এ’ প্রথম ইনিংস: ২৫৮/১০, ৬৭.৩ ওভার ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৬/১০,৭০.১ ওভার (পারভেজ ইমন ৭, মাহমুদুল হাসান জয় ৬৫, অমিত হাসান ২৫, হাসান মুরাদ ০, আইচ মোল্লাহ ৫৮*, সাদমান ইসলাম ০, শাহাদাত হোসেন দিপু ৩৩, অংকন ১৩, রেজাউর রহমান রাজা ৪, রিপন মন্ডল ২, মারুফ মৃধা ৩; কামরান শাহজাদ ৩/৬৭, মোহাম্মদ আলী ৬/৬৬, ফয়সাল আকরাম ১/৫১)
পাকিস্তান শাহীন (পাকিস্তান ‘এ’) প্রথম ইনিংস: ১৭৯/১০, ৬২.২ ওভার ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯০/১০, ৯৩.২ ওভার (হাসিব উল্লাহ ৫১, সাহেবজাদা ফারহান ৬৮, কামরান গুলাম ০, উমর আমিন ১০, মোহাম্মদ ইরফান খান ১৫, তায়েব তাহির ৪৩, ওমায়ের বিন ইউসুফ ৪৫, মোহাম্মদ আলী ২১, কামরান শাহজাদ ২৮, মাহমুদুল হাসান জয় ৫/২১, রেজাউর রহমান রাজা ৩/৮৫, হাসান মুরাদ ২/৬২)।
কিউএনবি/আয়শা/২৯ জুলাই ২০২৪,/বিকাল ৫:১২