বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : নিন্মমানের মালামাল ক্রয়ের কারণে ৮০ ভাগ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয় বলে অভিযোগ করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন দাবিতে সোমবার কর্মবিরতি পালনকালে এ অভিযোগ তোলা হয়। এ সময় বেতন বৈষম্য দূরিকরণের অনুরোধ জানানো হয়। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে একীভুত করে অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন এবং চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের দুই দফা দাবিতে সোমবার সারাদেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও কর্মবিরতি পালন করেন জেলার ৭২০ কর্মকর্তা-কর্মচারী।সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সুহিলপুর এলাকার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা আন্দোলন শুরু করেন।
এ সময় তারা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পিবিএস) কর্মীরা। অপরদিকে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) তারা কোনো কাজ না করে অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য নিন্মমানের সামগ্রী কিনছে বলে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। এর দায় নিতে হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিলিং সহকারি জেসমিন আক্তার ও রিয়া পাল জানান, তারা এখানো কাজ নাই মজুরী নাই ভিত্তিতে এখানে কাজ করছেন। এত বছর ধরে কাজ করলেও চাকরী স্থায়ীকরণ করা হচ্ছে না। একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও পদ-পদবী, বেতন-ভাতা, বোনাস সহ পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার পল্লী বিদ্যুৎ এ চাকরিরতরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের শিবপুর এলাকার মিটার রিডার ম্যাসেঞ্জার মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমরা আমাদের জীবননের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করছি। কিন্তু বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) তারা কোনো কাজ না করে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। তাছাড়া আমাদের চাকরীরও কোনো নিরাপত্তা নাই। তাই আমরা চাই আমাদের চাকরীবিধি বাস্তবায়ন করা হোক।ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (আইটি) মো. ওয়ালিউল্লাহ জানান, এর আগেও গত ৫ মে আন্দোলন হয়। তখন দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে কাজে ফেরানো হয়। কিন্তু দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিআরইবি নিন্মমানের মালামাল ক্রয় করছে বলে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হয়।