শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

প্রোটিয়াদের কাঁদিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপ শিরোপা ভারতের

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩০ জুন, ২০২৪
  • ৮৬ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল, ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনাল, ২০২১ ও ২০২৩ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল এবং সবশেষ ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল। আইসিসির এই পাঁচ ইভেন্টে রানার্স-আপ দল একটিই, ভারত। তবে রোহিত-কোহলিদের জন্য নম্বর ‘সিক্স’ হয়ে থাকল ‘লাকি’। কেননা ষষ্ঠবারের প্রচেষ্টায় এবার আর ব্যর্থ হলো না ভারত। প্রোটিয়াদের ৭ রানে হারিয়ে ১৭ বছর পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় শিরোপা জিতল রোহিত শর্মার দলটি। 

প্রোটিয়াদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ করে যেন সূর্যকুমারের ওই এক ক্যাচেই। শেষ ওভারে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। স্ট্রাইকে ডেভিড মিলার। শেষ ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার প্রথম বলে সজোরে উড়িয়ে মারলেন মিলার। তবে লং অফে বাউন্ডারিতে স্কাইয়ের দু’বারের প্রচেষ্টায় সেই অসাধারণ ক্যাচ এবং শিরোপা ফসকে গেল প্রোটিয়াদের হাত থেকে। শেষ পর্যন্ত বাকি পাঁচ বলে তারা তোলে ৮ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস থামে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান এবং ৭ রানে জিতে শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতে রোহিত-কোহলিরা। 

এদিকে ভারতের এই শিরোপা জয়ে বড় অবদান হার্দিকের শেষ দুই ওভার। অক্ষর প্যাটেল এক ওভারে ২৩ রান দেওয়ার পর ৩০ বলে প্রোটিয়াদের জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় কেবল ৩০ রানের। সেখানে বিধ্বংসী রুপে এগোচ্ছিলেন ক্লাসেন। ১৭তম ওভারে এই ডানহাতি ব্যাটারকে ফিরিয়ে জয়ের সম্ভাবনা ফেরায় হার্দিক এবং শেষ ওভারে মিলারকে ফিরিয়ে তা করেন অনেকটাই পাকাপোক্ত। এতেই ইনিংসে শেষ বল করার পর হার্দিকের চোখের পানিই বলে দিচ্ছিল এই শিরোপা কতখানি চাওয়ার। 

কেনসিংটন ওভালে এদিন ভারতের জয়টা শুরু টস দিয়েই। সেখানে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৬ রানের রেকর্ড সংগ্রহ তোলে তার দল। 

সেই লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় প্রোটিয়ারা। দলীয় ১২ রানের মাথাতেই তারা হারিয়ে বসে ২ উইকেট। তবে ট্রিস্টান স্টাবসকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ডি ককের ৫৮ রানের জুটি সেই চাপ অনেকটাই নিয়েছিল সামলে। সেখানে স্টাবস ৩১ রানে ফিরলেও ডি কক এগোচ্ছিল পিচে থিতু হয়ে। তবে দলীয় ১০৬ রানের মাথায় এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে সাজঘরের রাস্তা দেখান আর্শদীপ। ৩১ বলে ডি কক করেন ৩৯ রান। 

এরপরই শুরু হয় হেনরিখ ক্লাসেনের ঝড়। ২৩ বলে তিনি তুলে নেন ফিফটি এবং অক্ষরকে সেই ওভারে তুলধুনোর পর জয়ের একদম দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩০ বলে লাগত স্রেফ ৩০ রান। তবে সেখানে শেষ পাঁচ ওভারে বুমরাহ-আর্শদীপ-হার্দিকের পেসের সামনে দাঁড়াইতেই পারল না প্রোটিয়ারা এবং তাদের সংগ্রহ থামল ১৬৯ রানেই। সেখানে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন হার্দিক। এদিকে দুটি করে উইকেট নেন আর্শদীপ ও বুমরাহ। 

এদিকে এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বেশ ঝোড়ো পেয়েছিল ভারত। প্রথম ওভারেই স্কোরবোর্ডে ওঠে ১৫ রান। তবে দ্বিতীয় ওভারেই বড় ধাক্কা খায় ভারত। কেশভ মহারাজের জোড়া আঘাতে তিন বলের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন রোহিত ও পান্ত। পরে দলীয় ৩৪ রানের মাথায় চাপ বাড়িয়ে ফেরনে সূর্যকুমার যাদবও। 

আসরের ফাইনালে এসে রানে ফেরার দিনে অক্ষর প্যাটেলকে নিয়ে শুরুর সেই চাপ সামলে নেন কোহলি। চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৭২ রানের সময় উপযোগী জুটি। সেখানে অক্ষর ৩১ বলে ৪৭ রান করে ফিরলেও ছন্দে এগোতে থাকেন কোহলি। পরে দলীয় ১৬৩ রানের মাথায় ইয়ানসেনের বলে রাবাদার হাতে ক্যাচ এই ডানহাতি ব্যাটার। শেষে ১৬ বলে ২৭ রানের ক্যামিও খেলেন শিবাম দুবে। আর এতেই ১৭৬ রানের বিশ্বকাপের ফাইনালের রেকর্ড সংগ্রহে পৌঁছে যায় ভারত। প্রোটিয়াদের হয়ে সেখানে দুটি করে উইকেট নেন মহারাজ ও নর্কিয়া। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

ভারত: ২০ ওভারে ১৭৬/৭ (রোহিত ৯, কোহলি ৭৬, পান্ত ০, সুরিয়াকুমার ৩, আকসার ৪৭, দুবে ২৭, পান্ডিয়া ৫, জাদেজা ২; ইয়ানসেন ৪-০-৪৯-১, মহারাজ ৩-০-২৩-২, রাবাদা ৪-০-৩৬-১, মার্করাম ২-০-১৬-০, নরকিয়া ৪-০-২৬-২, শামসি ২৩-০-২৬-০)

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৬৯/৮ (হেনড্রিকস ৪, ডি কক ৩৯, মার্করাম ৪, স্টাবস ৩১, ক্লসেন ৫২, মিলার ২১, ইয়ানসেন ২, মহারাজ ২*, রাবাদা ৪, নরকিয়া ১*; আর্শদিপ ৪-০-২০-২, বুমরাহ ৪-০-১৮-২, আকসার ৪-০-৪৯-১, কুলদিপ ৪-০-৪৫-০, পান্ডিয়া ৩-০-২০-৩, জাদেজা ১-০-১২-০)

ফল: ভারত ৭ রানে জয়ী
ফাইনাল সেরা: বিরাট কোহলি
টুর্নামেন্ট সেরা: জাসপ্রিত বুমরাহ

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০ জুন ২০২৪,/সন্ধ্যা ৭:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit