ডেস্ক নিউজ : শুক্রবার (২১ জুন) কেরানীগঞ্জের আগানগর ও জিনজিরা এবং রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও হাতিরপুল কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আগে থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কাঁচা মরিচের দাম।
বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকায়। গত সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছিল ২০০ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০০ টাকা বেশি। ক্রেতারা বলেন, গরমের অজুহাত দিয়ে গত এপ্রিলে কাঁচা মরিচের বাজার অস্থির করার চেষ্টা হয়েছিল। এখন আবারও একই চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। নাবিল হাসান নামে এক ক্রেতা বলেন,
গত বছরের মতো আবারও কাঁচা মরিচের বাজার অস্থির করার পাঁয়তারা চলছে। ক’দিন আগে ঝড়বৃষ্টি আর গরমের অজুহাত দেয়া হলেও এখন দেয়া হচ্ছে ঈদের অজুহাত। ব্যবসায়ীদের অজুহাতের শেষ নেই। আরেক ক্রেতা জাভেদ বলেন, মরিচের বাজার যেভাবে বাড়ছে, তাতে এবারও কেজি হাজার টাকা ছাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখনই সরকারকে লাগাম টেনে ধরতে হবে। প্রয়োজনে ভারত থেকে অধিক পরিমাণে আমদানি করতে হবে।
আর বিক্রেতারা জানার, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও বাড়ছে। রাজধানীর নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা হাসিব বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ট্রাক-পিকআপগুলো পশু পরিবহনে ব্যস্ত ছিল। ফলে মরিচসহ অন্যান্য সবজি কম এসেছে। এতে দাম বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের মরিচ বিক্রেতা জয় জানান,মরিচের দাম বাড়লে মানুষ বেশি কিনে মজুত করা শুরু করে। এতে বাজারে সরবরাহ সংকটের মধ্যে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে দাম আরও বেড়ে যায়।
মরিচের পাইকারি দাম জানতে শ্যামবাজার ও কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারিতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৪০ টাকায়। রাজধানীর শ্যামবাজারের মরিচ বিক্রেতা সাজ্জাদ হোসেন জানান, এবার তীব্র গরমে প্রচুর মরিচ গাছ নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া ঈদের কারণে ভারত থেকে মরিচ আমদানি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে ট্রাক ভাড়াও। এতে সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরিচের বাজার ফের অস্থির হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি বাড়ানো দরকার। উল্লেখ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ২৫ জুন ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার।
কিউএনবি/আয়শা/২১ জুন ২০২৪,/সকাল ১১:৫৫