জালাল আহমদ, নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবায় নিয়োজিত কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন এবার গণ বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজন করে রীতিমতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। নিজ উদ্যোগে বিয়ের উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অর্থের অভাবে মেয়েদের বিয়ে দিতে না পারা চার কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন করে তাদের নিয়ে ‘গণ বিবাহোত্তর’ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন তিনি।গতকাল ৩১ মে শুক্রবার কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই ‘গণ বিবাহোত্তর’ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

শিল খালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে গণ বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলম, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ, নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুল করিম, নবনির্বাচিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন সোলতানা, শিল খালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা জসীমউদ্দীন আহমদ,শিলখালী ইউপি সদস্য শেখ ফরিদুল আলম, মোহাম্মদ বাহাদুর, আবুল কালাম, আব্দুস সামাদ, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক,আতিক উদ্দিন প্রমুখ।চার নবদম্পতির মধ্যে শিলখালী ইউনিয়নের কাছারী মোড়া এলাকার রাজিয়া সোলতানার সঙ্গে পেকুয়া মেহেরনামার মোহাম্মদ হেফাজ উদ্দিন, পূর্ব ভারুয়াখালীর কানিছ ফাতেমার সঙ্গে চট্টগ্রামের মো. সোহেল, কাছারীমোড়ার তাসনিম জান্নাতের সঙ্গে চট্টগ্রামের মহানগরীর চাঁদগাঁও এলাকার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও মাঝেরঘোনার সাইমা জান্নাতের সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার টৈটংয়ের মো. শাকিবের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।জানা যায়, বিয়ের চার কনের মধ্যে একজন মাঝেরঘোনার সাইমা জান্নাত। তার বাবা আহমদ হোসেন মারা গেছেন ১৫ বছর আগে। পরিবারে সাইমা ছাড়াও রয়েছে দুই বোন ও ছয় ভাই। সবাই বিয়ে করে সংসারি হলেও ছোট মেয়ে সাইমাকে নিয়ে মা ছফুরা খাতুন পড়েছিলেন বিপাকে। মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হলেও অর্থাভাবে বিয়ে দিতে পারছিলেন না। বিষয়টি জানতে পেরে বিয়ের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান।সাইমার বিয়ের উদ্যোগ নেয়ার সময় ইউপি চেয়ারম্যান জানতে পারেন তার এলাকায় আরও কিছু পরিবার রয়েছে যারা অর্থের অভাবে বিয়ে দিতে পারছেন না। খোঁজ খবর নিয়ে সাইমার সাথে আরও তিনটি মেয়ের বিয়ের উদ্যোগ নেন তিনি।এলাকাবাসী জানা গেছে, বিয়ের আয়োজনে বরপক্ষের লোকজন ছাড়াও দাওয়াত করা হয় এলাকার অন্তত পাঁচশ মানুষকে। বড় পরিসরে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনও করা হয় । এছাড়া প্রতিটি দম্পতিকে উপহার হিসেবে দেয়া হয় ফার্নিচার সেট, হাঁড়ি পাতিল সহ সংসারের আনুষঙ্গিক কিছু জিনিসপত্রও।শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবায় নিয়োজিত আছি। এলাকাবাসীর যে কোন বিপদে পাশে থাকি।এবার অসহায়-দুস্থ পরিবারের মেয়েদের বাছাই করে বিয়ের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ বলেন,”ইউপির চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে চারজন নবদম্পতির বিয়ে সম্পন্ন করে মহৎ আত্মার পরিচয় দিয়েছেন। এটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।সব এলাকায় এই দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে পড়ুক।সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, “আমরা একটা ইতিহাসের অংশ। এটা একটা ইতিহাস তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতে এই ধারা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক।