শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কঠিন পরিণতি

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪
  • ৬৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : মিথ্যা বলা অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া গর্হিত অপরাধ। কোনো বিষয়ে নিশ্চিত না জেনে ওই বিষয়ে অনুমানভিত্তিক কোনো কথা বলা অপরাধ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার পরিপূর্ণ জ্ঞান নেই সে বিষয়ের পেছনে পড়ো। নিশ্চয়ই কান, চোখ, হৃদয়—এসবের ব্যাপারে (কিয়ামতের দিন) জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৬)
মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘(অনুমানভিত্তিক) মিথ্যাচারীরা ধ্বংস হোক।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১০)

মিথ্যা কখনো কখনো মিথ্যাবাদীকে জাহান্নাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং মিথ্যা বলতে বলতে পরিশেষে সে আল্লাহ তাআলার কাছে মিথ্যুক হিসেবে পরিগণিত হয়। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা সত্য আঁকড়ে ধরো। কেননা সত্য পুণ্যের পথ দেখায় আর পুণ্য জান্নাতের পথ।

কোনো ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বললে এবং সর্বদা সত্যের অনুসন্ধানী হলে সে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে সত্যবাদী হিসেবে পরিগণিত হয়। আর তোমরা মিথ্যা থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকো। কেননা মিথ্যা পাপাচারের রাস্তা দেখায় আর পাপাচার জাহান্নামের রাস্তা। কোনো ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা কথা বললে এবং সর্বদা মিথ্যার অনুসন্ধানী হলে সে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদীরূপে পরিগণিত হয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬০৭)

মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পরিণতি মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া কবিরা গুনাহের অন্যতম। আল্লাহর খাঁটি বান্দাদের বৈশিষ্ট্য হলো তারা কখনো মিথ্যা সাক্ষ্য দেবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭২) মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে বিচারককে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছার ব্যাপারে লক্ষ্যভ্রষ্ট করা হয়। উম্মে সালামা (রা.) বলেন, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমি তো মানুষ।

আর তোমরা আমার কাছে মাঝে মাঝে বিচার নিয়ে আসো। হয়তো তোমাদের কেউ কেউ নিজ প্রমাণ উপস্থাপনে অন্যের চেয়ে অধিক পারঙ্গম। অতএব, আমি শোনার ভিত্তিতেই তার পক্ষে ফায়সালা করে দিই। সুতরাং আমি যার পক্ষে তার কোনো মুসলিম ভাইয়ের কিছু অধিকার ফায়সালা করে দিই সে যেন তা গ্রহণ না করে। কারণ আমি ওই বিচারের ভিত্তিতে তার হাতে একটি জাহান্নামের আগুনের টুকরা উঠিয়ে দিই।’

(বুখারি, হাদিস : ২৪৫৮, ২৬৮০) মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে বিবাদীর ওপর বিশেষভাবে জুলুম করা হয়। কারণ এরই মাধ্যমে তার বৈধ অধিকার অবৈধভাবে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তখন সে মাজলুম। আর মাজলুমের ফরিয়াদ আল্লাহ তাআলা কখনো বৃথা যেতে দেন না। মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে দোষীকে আরো হঠকারী বানিয়ে দেওয়া হয়। কারণ সে এরই মাধ্যমে কঠিন শাস্তি থেকে রেহাই পায়। অতএব, সে মিথ্যা সাক্ষ্য পাওয়ার আশায় আরো অপরাধকর্ম ঘটিয়ে যেতে কোনো দ্বিধা করে না।

মিথ্যা সাক্ষ্যের মাধ্যমে ইসলামের হালাল-হারামের ব্যাপারে না জেনে আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করা হয়। আনাস (রা.) বলেন, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, সর্ববৃহৎ কবিরা গুনাহ চারটি : আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কাউকে শরিক করা, কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে হত্যা করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া ও মিথ্যা কথা বলা। বর্ণনাকারী বলেন, অথবা রাসুল (সা.) বলেছেন, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। (বুখারি, হাদিস : ৬৮৭১; মুসলিম, হাদিস : ৮৮)

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৪ মে ২০২৪,/দুপুর ১২:৪৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit