ডেস্ক নিউজ : প্রশ্ন: হজ ফরজ হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে হজ পালন করতে বিলম্ব করলে কি গুনাহ হবে? উত্তর: বাইতুল্লাহ গিয়ে হজ করে ফিরে আসার মতো আর্থিক সংগতি রয়েছে— এমন ব্যক্তির ওপর হজ পালন করা ফরজ।
আল্লাহ তাআলা বলেন, وَلِلّٰہِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡہِ سَبِیۡلًا
অর্থ: মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ্জ করা ফরজ। (আলে ইমরান, ৯৭)
আর হজ ফরজ হলে অনতিবিলম্বে হজ পালন করা উচিত। হাদিসে অনতিবিলম্বে হজ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, تَعَجَّلُوا إِلَى الْحَجِّ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي مَا يَعْرِضُ لَهُ
অর্থাৎ, তোমরা অনতিবিলম্বে হজ পালন করো। কেননা তোমাদের কারও জানা নেই, সে ভবিষ্যতে কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। (মুসনাদে আহমদ, ২৮৬৭)
এ হাদিস নির্দেশ করে যে, হজ ফরজ হলে অনতিবিলম্বে হজ পালন করতে হবে। বিলম্ব করলে মৃত্যু বা অন্য কোনো বাধা আসায় ফরজ হজ পালন অসম্ভব হয়ে যেতে পারে।
বাবা-মায়ের জন্য একমাত্র মেয়েকে সব সম্পত্তি লিখে দেওয়া জায়েজ?
আল্লামা ইবনুল হুমাম রহ. বলেন, وَيَأْثَمُ بِالتَّأْخِيرِ عَنْ أَوَّلِ سِنِي الْإِمْكَانِ فَلَوْ حَجَّ بَعْدَهُ ارْتَفَعَ الْإِثْمُ
অর্থাৎ, সম্ভব হলে প্রথম বছরেই হজ পালন করতে হবে। প্রথম বছরে হজ পালন সম্ভব হওয়া স্বত্তেও বিলম্ব করলে গুনাহ হবে। তবে পরবর্তীতে যদি সে হজ্জ করে ফেলে, তাহলে গুনাহ রহিত হয়ে যাবে। (ফাতহুল কাদির, ২/৩১৪)
মোটকথা, হজ ফরজ হলে অনতিবিলম্বে হজ করে নিতে হবে। শরিয়ত-গ্রাহ্য যৌক্তিক কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃত হজ পালনে বিলম্ব করলে গুনাহ হবে।
সূত্র: তাবয়িনুল হাকায়িক, ২/৩; আল-বাহরুর রায়িক, ২/৩৩৩; আন-নাহরুল ফায়িক, ২/৫৪; রাদ্দুল মুহতার, ২/৪৫৭
কিউএনবি/আয়শা/২৯ মার্চ ২০২৬,/রাত ৯:১২