বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপুরে বেকারির খাদ্যে ক্যামিকেল ও ক্ষতিকর রং

তোবারক হোসেন খোকন দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি ।
  • Update Time : রবিবার, ১২ মে, ২০২৪
  • ৭২ Time View

তোবারক হোসেন খোকন দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৭টি বেকারিতে দীর্ঘ দিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন খাদ্য পণ্য। ভেজালবিরোধী অভিযান না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে মালিকদের কোনও অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে নামে-বেনামে গড়ে ওঠা বেকারি কারখানা গুলোতে আইন না মেনে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন খাদ্য পণ্য। এই গুলো বিএসটিআই এর অনুমোদন ছাড়াই বিক্রি করা হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নি¤œমানের ভেজাল পণ্য তৈরি করে দেদারসে বাজারজাত করছে। বেশিরভাগ খাদ্যের প্যাকেটে মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ও নেই কোন স্টিকার। বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যায় কেক, বিস্কুট, পাউরুটি, বাটারবন, মিষ্টিসহ হরেকরকমের পণ্য। এসবের বেশিরভাগ প্যাকেটে মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ না থাকায় দোকান গুলোতে বেশিদিন রেখে বিক্রি করছে তারা, ফলে হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য।

দুর্গাপুর পৌর শহরের ঠাকুরবাড়িকান্দা এলাকায় ভৈরব বেকারীতে গেলে এই বেহাল চিত্র উঠে এসেছে। ভেতরে নোংরা পরিবেশের দুর্গন্ধের ছড়াছড়ি। স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা পরিবেশ ভেজাল ও নিম্নমানের উপকরণ এবং বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে বেকারিতে অবাধে তৈরি করা হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। বেকারি পণ্য উৎপাদনের কাজের লোকজন কোন ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।

কারিগরদের গাঁয়ের ঘাম ঝরে পরছে খাদ্যে, কারো হাতে নেই কোন গ্ল্যাভস, মেঝে সহ খাদ্য পণ্যের সাথে পড়ে রয়েছে বিড়ি সিগারেটের খোলস। খাদ্য তৈরির সরঞ্জামে বসছে কীটপতঙ্গ। কারখানায় পাওয়া গেছে মানব দেহের চরম ক্ষতিকর বিষাক্ত ক্যামিকেল, ক্ষতি কারক রং, পচা ডিমসহ নানান ক্ষতিকর পন্য।

হান্নান মিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘বেকারির তৈরি এসব খাবারে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ দেখার কোন উপায় নাই। আর ক্রেতারা তো আর এসব জিজ্ঞেস করে না। পরে বাড়িতে নেওয়ার পর মাঝেমধ্যে খাবার থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বোঝা যায় এই খাবারের মেয়াদ নাই।

এ নিয়ে ভৈরব বেকারি‘র মালিক স্বপন মিয়া বলেন, আজকের পর থেকে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে সকল খাবার বানাবো। ‘আমাদের বিএসটিআই এর কাগজপত্র নাই। এ নিয়ে কোন নিউজ করার দরকার নাই।

উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মো. আলী আকবর জানান, বেকারি মালিকদের একাধিকবার বলা হয়েছে, কিছুদিন আগেও পরিদর্শন করে রিপোর্ট পাঠিয়েছি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ভেজাল মুক্ত খাদ্যদ্রব্য প্রস্তত করতে নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু তারা কোনপ্রকার নিষেধাজ্ঞা মানছে।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান জানান, খাদ্যে ভেজাল এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অচিরেই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নেয়া হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১২ মে ২০২৪,/বিকাল ৫:৩৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit