আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই অঞ্চলের মধেশ প্রদেশে কয়েক দিন ধরে চলা দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। চার জেলায় কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। একটি শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা কীভাবে কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ল, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত রবিবার ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ এলাকায় একটি শোভাযাত্রা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, শোভাযাত্রার সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানো হচ্ছিল এবং ধর্মীয় পতাকা বহন করা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় আরেকটি সম্প্রদায়ের কয়েকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। সেখান থেকে দ্রুত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা আশপাশের জেলাগুলোতেও বিস্তার লাভ করে।
পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। তবে কী পরিস্থিতিতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং নিহতদের মৃত্যু ঠিক কীভাবে হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এরপর থেকেই সুনসারি, সিরাহা, ধনুষা ও সপ্তরী জেলায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসব জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পারসা জেলায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেপাল পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত রবিবার সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভায় সংঘর্ষে আহত ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতারও মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলার গোলবাজারে সংঘর্ষ চলাকালে ১৭ বছর বয়সী গণেশ যাদব নিহত হন। এতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
এ ঘটনায় আহত ১৯ বছর বয়সী সুভাষ ঠাকুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
বৃহস্পতিবার মধেশ প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী জনকপুরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে জনকপুরধাম উপমহানগর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। ধনুষা জেলা প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জনকপুরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার ও পদাতিক টহল জোরদার করা হয়েছে।
সিরাহা জেলার গোলবাজারে কারফিউ উপেক্ষা করে পূর্ব-পশ্চিম মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কয়েকটি দোকান ও বিপণিবিতানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, কয়েক দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও শুরুতেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি নিরাপত্তা বাহিনী। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
সোর্স: আল জাজিরা, কাঠমান্ডু পোস্ট, ফাস্ট পোস্ট
কিউএনবি/অনিমা/৩১ জুলাই ২০২৬,/রাত ৯:৩০