আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপি ও এনডিএ-শাসিত ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) কার্যকর করার লক্ষ্য ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
রোববার মুম্বাইয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, কয়েকটি রাজ্যে ইতোমধ্যেই ইউসিসি চালু হয়েছে এবং বাকি বিজেপি-এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিতেও তা কার্যকর করা হবে।
অমিত শাহের এই ঘোষণার পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে। ভারতে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক-সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয়ে ধর্মভেদে আলাদা রীতি ও আইনি কাঠামো রয়েছে। ইউসিসি চালু হলে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি অভিন্ন নাগরিক আইন কার্যকর হবে। বিজেপির দাবি, এর ফলে নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ধর্মের ভিত্তিতে আইনের ভিন্নতা দূর হবে।
মুসলিম সমাজের একাংশের আশঙ্কা, অভিন্ন আইনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক রীতিনীতির উপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মুসলিম মহিলাদের বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং পারিবারিক অধিকারের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপির যুক্তি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে মুসলিম মহিলারাও অন্য সম্প্রদায়ের মহিলাদের মতো সমান আইনি অধিকার পাবেন। পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়েও মুসলিম সমাজের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হিজাব, বোরখা বা ধর্মীয় পোশাক ভবিষ্যতে আইনের আওতায় আসবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে বর্তমানে কার্যকর উত্তরাখণ্ডের ইউসিসি-তে পোশাক নিয়ন্ত্রণের কোনও বিধান নেই।
উত্তরাখণ্ডের সরকারি নথি অনুযায়ী, ইউসিসির মূল বিষয় বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক, লিভ-ইন সম্পর্কসহ নাগরিক ও পারিবারিক আইন। দেশে প্রথম উত্তরাখণ্ডে ইউসিসি কার্যকর হয়। পরে বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যেও এ নিয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে ইউসিসি নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ফলে অমিত শাহের নতুন ঘোষণার পর বাংলাতেও এই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এনডিএ-শাসিত ২১টি রাজ্যে ইউসিসি চালু করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র।
কিউএনবি/আয়শা/১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৮:০৮