বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : সপ্তাহ দু’য়েক হলো কাজ করতে গিয়ে দুই পায়ের নিচের অংশ কাটা পড়ে মো. রাজ বিল্লালের। তবে থেমে নেই কর্মজীবন। চিকিৎসা চলতে থাকা বিল্লাল গত কয়েকদিন ধরে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও আসতে শুরু করেছিলেন। মঙ্গলবার সকালেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সাটির পাড়ার কালির বাজারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে আসেন মো. রাজ বিল্লাল। সঙ্গে ছিলেন তার তৃতীয় শ্রেণি পড়–য়া মেয়ে ইশা মণি। প্রথমে সে দোকান খোলায় বাবাকে সহায়তা করে। এরপর বাবার জন্য টিফিন বক্সে করে আনা খাবার খেতে দেয়।
ইশা মণি এখানেই থেমে থাকেনি। তাপদাহে বাবার অবস্থাটাও যেন তার মনকে ভারাক্রান্ত করে তুলে। বাবার খাওয়ার সময় সে হাত পাখা দিয়ে সে বাতাসও করে। মেয়ের এমন দৃশ্য খাবার খেতে থেকে বারবার ফেলফেল করে দেখছিলেন বাবাও।সাটির পাড়া গ্রামের ইশা মণিরা দুই বোন এক ভাই। এর মধ্যে ইশা মণি দ্বিতীয়। পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। ছোট কাল থেকেই ইশা মণি বাবাকে বেশ খেয়াল রাখেন বলে দাবি পরিবারের। ইদানিং বাবার অসুস্থতায় সে আরো বেশি যত্নশীর হয়ে উঠে।
রাজ বিল্লালের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান উদয় টাইলস এন্ড সেনিটারির পাশের দোকানী কার্তিক চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার সকালে বাবার প্রতি সন্তানের এমন ভালোবাসার দৃশ্য তার চোখ পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি এটি ভিডিও চিত্রে ও ছবিতে ধারণ করেন। এ ঘটনায় তিনি বেশ আবেগপ্রবণ হন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিজয়নগর উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক কার্তিক চৌধুরী লিখেছেন, ‘বাবা ভাত খেতে বসেছে। মেয়ে দাঁড়িয়ে পাখা করছে। এমন মেয়ে যার আছে সে সুখী। ধন্যবাদ মা তোমার এ ভালোবাসার জন্য।’মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কথা হয় মো. রাজ বিল্লালের সঙ্গে। মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘দেড় দুই বছর বয়স থেকেই মেয়েটি আমার খুব ভক্ত। আমার পা কাটা যাওয়ার পর থেকে সে আমার খুব যত্ন নেয়। কয়দিন ধরে সে দোকানেও আসে। নিজেই দোকান খুলে। দোকানের অন্যান্য কাজেও আমাকে সহায়তা করে।
কিউএনবি/অনিমা/২৪ এপ্রিল ২০২৪,/সকাল ৯:৩৪