বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর অস্তিত্ব এখন হুমকির মূখে

শান্তা ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি ।
  • Update Time : সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪
  • ১৭৫ Time View

শান্তা ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। ভারতের মেঘালয় থেকে শুরু হয়ে দুর্গাপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খর¯্রােতা সোমেশ্বরী নদীর অস্তিত্ব এখন হুমকির সম্মুখীন। এর বুক চিড়ে তোলা হচ্ছে বালি আর পাথর। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ দুষিত হচ্ছে।

সোমেশ^রীতে নদীর বুকে চলছে বালি আর পাথর তোলার প্রতিযোগিতা। নদীর আয়তন আর আকার ছোট হতে হতে এখন নদীর পশ্চিম দিকে এখন বাঁশের সাঁকো তৈরী করে লোকজন নদী পারাপার হচ্ছেন। অথচ এই নদীর বালি বিক্রি করে সরকার প্রতিবছর পাচ্ছে প্রায় ১০০ শত কোটি টাকার রাজস্ব। কিন্তু নদী সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

সোমেশ্বরী নদীর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো পাহাড় থেকে শুরু হয়ে সীমান্তবর্তী নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীর দৈর্ঘ্য ৫০ কিলোমিটার এবং কাগজেপত্রে প্রস্ত ছিল ১১৪ মিটার। আর নদীর গতি প্রকৃতি হচ্ছে সর্পিলাকার। নদীর দৈর্ঘ ঠিক থাকলেও প্রস্ত এখন আর আগের মত নেই। নদী ভরাট হতে হতে এখন এর প্রস্ত হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ মিটার। আর তাই বর্ষায় বালিতে ভরাট নদীতে যখন পাহাড়ী ঢল নামে তখন নদীর দুই পার উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে।

আজ থেকে ১৫- ২০ বছর আগেও এই নদীতে সাপরা বছর পানি থাকত। সারা বছর নাব্য ছিল তখন নৌ-বাণিজ্য ছিল জমজমাট। দুর্গাপুর থেকে পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন বাজারে চলাচল করতেন। অন্য জায়গা থেকেও এই নদী দিয়ে পন্য পরিবহন হতো। কিন্তু এখন বছরের দুই থেকে ৩ মাস এই নদীতে পানি থাকে। আর সরা বছর নদী চর পড়ে একাবার। নদী থেকে বালি তোলার জন্য সরকারি ভাবে দেয়া ইজারা থকেলেও কিছু লোক অবৈধভাবে নিজেদের ইচ্ছেমত ড্রেজার বসিয়ে বালি ও নূরী পাথর উত্তোলন করছে। এতে করে প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন বিনষ্ট হচ্ছে, নদী হারাচ্ছে তার গতি প্রকৃতি।

দুর্গাপুরের সাংস্কৃতিক কর্মী তোবারক হোসেন খোকন বলেন, সোমেশ^রী নদী দিনদিন প্রস্থ ছোট হয়ে আসছে। বর্ষাকালে ২/৩ মাস নদীতে পানি থাকলেও শুস্ক মৌসুমে পানি থাকে না। নৌ-চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। সেই সাথে বন্ধ থাকে নৌ-বাণিজ্য। নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে হলে পরিকল্পিতভাকে নদী খনন করা প্রয়োজন।

বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী পরিবেশবিদ অহিদুর রহমান, সাংস্কৃতিক কর্মী সাইফুল্লাহ এমরান, উন্নয়ন কর্মী মৃণাল কান্তি চক্রবর্তী বলেন, সোমেশ্বরী নদীর অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে এর উৎসমুখে আগে খনন করতে হবে। যারা বালির ব্যবসা করেন, তাদের নির্ধারিত লিজ নেয়া এলাকা থেকে বালি উত্তোলন করতে হবে।

দুর্গাপুর পৌরসভা এবং শিবগঞ্জ বাজার রক্ষার জন্য নদীর উভয় দিকে শক্ত বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া বালির কারণে দুর্গাপুর পৌর এলাকা এখন বিধ্বস্থ রুপ নিয়েছে, তা রোধ করতে হলে বালি পরিবহনের জন্য বিকল্প সড়ক নির্মান করতে হবে। তারা আরো বলেন, সরকার এই নদীর বালি বিক্রয় প্রকিবছর একশত কোটি টাকার মত আয় করছে। সেই টাকা থেকে প্রতিবছর কিছু টাকা খরচ করে নদীর পাড় রক্ষা করা যেমন সহজ হতো, তেমনি আগাম বন্যার সময় নদীর পানি আশে পাশের জমিতে বালি আসতে পারত না। ফসরী জমি নষ্ট হতো না।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রশৌশলী মো. সারওয়ার জাহান বলেন, সোমেশ্বরী নদীকে রক্ষা করতে হলে নদী থেকে বালি উত্তোলন করতে হবে। আর তা না হলে পাহাড়ী ঢলের সাথে আসা বালিতে নদী ভরাট হয়ে যাবে। তখন বন্যা দেখা দিলে এই বালি আশেপাশের সকল ফসলী জমি গ্রাস করবে। বালির কারণে সেখানে কোন ফসল ফলানো যাবে না। ইতিমধ্যে শতশত একর জমিতে বালির স্তর পড়েছে। সেখানে ধান চাষ করা যায় না। এখন শীতকালিন সবজি করতে কৃষকরা বাধ্য হচ্ছেন।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, সোমেশ্বরী নদী পাহাড়ী নদী হওয়ায় বর্ষাকালে এর রূপ থাকে ভিন্ন। শুস্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে যায়। নদীর খনন নিয়ে উর্ধ্বতন মহল কাজ করছেন। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে হলে বালি উত্তোলন করতেই হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৪ মার্চ ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit