লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : শীতকালীন সবজি ব্রকলি। অনেকটা ফুলকপির মতো দেখতে সবুজ রঙের এই সবজির চাহিদা এখন সর্বত্র।
বর্তমানে চায়নিজ খাবারের পাশাপাশি দেশি খাবারেও ব্যবহৃত হচ্ছে ব্রকলি। কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায় এই সবজি।
ব্রকলি সাধারণত ক্রসিফেরী গোত্রের শীতকালীন সবজি। এতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফোলেট, আঁশ আছে। এতে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস থাকায় হৃদরোগ, বহুমূত্র এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ব্রকলি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ এবং সি সরবরাহ করে কোষের ক্ষতি রোধ করে। সাধারণত তিন ধরনের ব্রোকোলি বেশি দেখা যায়
ব্রকলিতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি পাওয়া যায়। মার্কিন ফুডডাটা সেন্ট্রালের তথ্য মতে দিনে মাত্র ১০০ গ্রাম ব্রকলি শরীরে প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদার ১৫০% পূরণ হতে পারে। ভিটামিন সি ছাড়াও ব্রকলিতে রয়েছে
ভিটামিন বি৬, ফোলেট (বি৯), ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন (বি২) সহ অন্যান্য উপাদান।
লেবুর দ্বিগুণ ও আলুর সাত গুণ ভিটামিন সি ব্রোকলিতে। বলা হয়, যাঁদের ভিটামিন সি দরকার, তাঁরা অল্প করে হলেও ব্রোকলি প্রতিদিন খেতে পারেন। এছাড়া, ভিটামিন সি দেহে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালস দূর করে।
ব্রোকলির বিটা ক্যারোটিন ও সেলিনিয়াম যৌথ ও ভিটামিন সি প্রোস্টেট, কোলন, ফুসফুস, যকৃত, স্তন ও প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। এছাড়া ব্রকলির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ। এইসব যৌগ ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। ক্রুসিফেরাজ নামক একটি উপাদান স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের টিস্যু মেরামত করে এবং ত্বক উন্নত করতে ব্রকলিতে থাকা গ্লুকোরাফানিন বৈশিষ্ট্য অনন্য। ব্রকলিতে রয়েছে ভিটামিন কে ও ভিটামিন সি, যা চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে থাকে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে থাকে।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ব্রকলি। এতে ফাইবার ও পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি খেলে অন্য খাবারের আসক্তি কমে। বেশি আয়রন থাকায় ডায়েটের সময় ব্রোকলি খেলে ঝিম ধরা ভাব দূর হয়।
সালফোরাফেন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃৎপিণ্ডকে বিভিন্ন হৃদরোগের থেকে রক্ষা করে। ব্লাড সুগারের মাত্রা কমায়। এছাড়া গ্যাসট্রিক আলসার ও গ্যাসট্রাইটিস প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর ব্রোকলি।
ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, জ্বর, মুখের ঘা, সর্দি-কাশি ইত্যাদি আরও অনেক রোগ প্রতিহত করে। এতে থাকা সেলিনিয়াম দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ব্রকলি একটি পুষ্টিকর সবজি। আমরা সাধারণত এটি তরকারি হিসেবে রান্না করে খেয়ে থাকি। তবে কাঁচা বা সিদ্ধ ব্রকলি থেকে বেশি উপকারিতা পাওয়া যায়। ব্রকলি অনেকক্ষণ ধরে রান্না করলে এর পুষ্টি উপাদান হ্রাস পায়। তাই এটি ভাপে সেদ্ধ করা ভালো।
এছাড়া সালাদ বা স্যুপ বানিয়েও ব্রকলি খাওয়া যায়। তবে একটানা না খেয়ে সপ্তাহে ৩-৪ দিন খেলে পুষ্টিগুণ পর্যাপ্ত পাওয়া যাবে।
কিউএনবি/অনিমা/১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪/বিকাল ৩:৩৫