বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ‘জমি কইরা বাত খাই। হেই জমিত চেয়ারম্যান রাইতের বেলা মাডি ফালাই দিছে। জমি না থাকলে ফসল ফলামু কইত্তে। ফসল করতে না পারলে আমি খামু কি’। বলছিলেন মো. সিরাজুল ইসলাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার খাদুরাইল গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় পুরোদস্তুর কৃষক। জমি রক্ষায় বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে হওয়া মানববন্ধনে অন্য ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে হাত মিলিয়ে ছিলেন তিনি।
সিরাজুল ইসলামসহ ভুক্তভোগী অন্যদের অভিযোগ, ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক বকুল ও তার ভাই জেলা পরিষদ সদস্য বাবুল আক্তারের বাড়িতে যাওয়ার জন্য নতুন রাস্তা বানাতে জোর করে মালিকানাধীন জমিতে মাটি ফেলা হচ্ছে। জোরপুর্বক ভাবেই এ কাজ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইউএনও বরাবর তারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মানববন্ধন চলাকালে জানানো হয়, খাদুরাইল এলাকায় খাল উদ্ধারের নামে অন্তত ৫০ জন কৃষকের জমি মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। খাল কাটার মাটি না সরিয়ে পাশের জমি ভরাট করে রাস্তা বানানো হচ্ছে। এই রাস্তা নির্মাণ হলে আখাউড়া-চান্দুরা সড়ক থেকে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে যাওয়ার পথ কমে আসবে ও সহজ হবে।
ভুক্তভোগীরা জানান, খালটি উদ্ধারে তাদের আপত্তি নেই। এতে তারা খুশি। কিন্তু অকারণে রাস্তা করায় তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এটা থেকে মুক্তি পেতে তারা ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদনও করেছেন। তবে জিয়াউল হক বকুল বলেন, ‘উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে খাল উদ্ধার করা হচ্ছে।
আর জমিতে যাওয়ার জন্য রাস্তা করা হচ্ছে। আমার বাড়িতে যাওয়ার একাধিক রাস্তা আছে।’ তবে এতে কারো ব্যক্তিগত জমি পড়ে থাকলে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। ইউএনও রুবাইয়া আফরোজ বলেন, ‘একটি খাল উদ্ধার করা হচ্ছে। তবে পাশে রাস্তা করতে গিয়ে ব্যক্তিগত জমি পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’