বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
১২ বছর পর খুলল চীন-কোরিয়াকে সংযুক্তকারী সেতু ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি যুক্তরাষ্ট্রে ১১ দিনের ব্যবধানে দুই ছেলের মৃত্যু, চুনারুঘাটে মাতম ওমান উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ককরোচ পার্টির পক্ষে রায় দিল্লি হাইকোর্টের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে জোর, তিন মাস পর অগ্রগতি দেখতে চান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করল যুক্তরাষ্ট্রের ৮ অঙ্গরাজ্য, যে অভিযোগ আনা হলো বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নদীভাঙন রোধ ও পুনঃখননে জোর, রাজশাহী-নাটোরের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ অস্ট্রেলিয়ায় সব ম্যাচ হেরেও ‘ইতিবাচক দিক’ দেখছেন জ্যোতি

ইথিওপিয়ায় দুর্ভিক্ষের ভয় বাড়ছে!

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৬৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইথিওপিয়ার উত্তর টাইগ্রে অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। অঞ্চলটি সাম্প্রতিক যুদ্ধের বিপর্যয় থেকে গ্রামবাসীরা পুনরুদ্ধার হওয়ার আগেই সেখানে তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনাহারে শত শত শিশু মারা যাওয়ার খবরও আসছে।

তবে বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় সংকট চাষের মৌসুমের শুরুতেই দেখা যাওয়াটা। টাইগ্রে এবং প্রতিবেশী আমহারায় প্রধান ফসল উৎপাদন হয় নভেম্বর মাসে। বছরের এমন এক সময় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে যখন খাবার সবচেয়ে বেশি থাকার কথা।

এদিকে আদ্দিস আবাবার ফেডারেল সরকার দুর্ভিক্ষ আসন্নের কথা অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সাহায্য প্রদানের জন্য কাজ করছে। ত্রাণ তৎপরতায় ধীরগতি এবং সংকটকে ১৯৮৪ সালের পরিস্থিতির সাথে তুলনা করা হচ্ছে। সে সময় খরা এবং যুদ্ধ সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে দেশটিতে ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়ের কার্যালয় (ওচা) ধারণা করছে, এই মুহূর্তে ২ কোটির বেশি ইথিওপিয়ানের খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন, যাদের মধ্যে মাত্র এক তৃতীয়াংশ সহায়তা পাচ্ছে। গত মাসে টাইগ্রের কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অঞ্চলের ৩৫ লাখ মানুষের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষের সারা বছরের জন্য খাদ্য সাহায্যের প্রয়োজন।

ওচা জানায়, এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষক, এবং এক-তৃতীয়াংশ যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষ যারা এখনও বাড়ি ফিরতে পারেনি। ২০২৪ সালের মধ্যে আরও ১৭ লাখ মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন হবে। এ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ যুদ্ধ। যা টাইগ্রেকে চরম দারিদ্র্যের ঠেলে দিয়েছে।

ফেডারেল এবং আঞ্চলিক সরকার পতনের পর একদিকে ইথিওপিয়ান সরকার ও মিত্র বাহিনী এবং অন্যদিকে টাইগ্রায়ান বাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে চলা দুই বছরের যুদ্ধে এই অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হয়। ১৪ লাখের বেশি মানুষকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়।

২০২০ সালে সংঘাত শুরু হওয়ার পরই আমহারা বাহিনী টাইগ্রের কিছু অংশ দখল করে

সরকারি সৈন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা এ অঞ্চলের খাদ্য ও খামার চুরি বা পুড়িয়ে ফেলা, জমি চাষের লাঙ্গলসহ গরু ও গবাদি পশু জবাই করা এবং পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ভাঙচুর করেছে। যদিও সরকারিভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

টাইগ্রেতে বেশিরভাগ কৃষকদেরই জমির ছোট ছোট প্লট রয়েছে। তবে তারা শেষ পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ চাষাবাদ করতে পারেনি। যুদ্ধের সময় তরুণরা শহরে বা বাণিজ্যিক খামারে মৌসুমী শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত ছিল।

এছাড়া, দুই বছরের যুদ্ধে এই অঞ্চলের অর্থনীতি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো- কারখানা লুট বা পুড়িয়ে ফেলা, পর্যটন শূন্যতা এবং উৎপাদনশীল কৃষিজমি দখল করা। তার ওপরে অবরোধ। বাণিজ্য বন্ধ। ব্যাংক বন্ধ ছিল। কৃষকরা ঋণ পাচ্ছেন না।

প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়নি এবং ৯০ হাজার পেনশনভোগী তাদের পেনশন সংগ্রহ করতে পারেনি। মানুষেরা স্বল্প সঞ্চয় ব্যবহার করেছে এবং মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করেছে। মূল্যস্ফীতি খাদ্যের দামকে নাগালের বাইরে ঠেলে দিয়েছে।

২০২২ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর অবরোধ শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু কোনকিছু পুনর্গঠন হয়নি। তবে এখনও স্বল্প বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান আছে।

স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় টাইগ্রে-এর ৯৭টি জেলার মধ্যে মোট ৩৬টিই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেখানে সাধারণত প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এক তৃতীয়াংশের কম হয়েছে।

যুদ্ধ ও খরা ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছ

এদিকে, পাশের আমহারায় খরা এবং সশস্ত্র সংঘাতে সেখানেও খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। দক্ষিণ ইথিওপিয়ায় বারবার খরা যাজক সম্প্রদায়কে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

অক্টোবরে, USAid-এর দুর্ভিক্ষের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির একটি যৌথ প্রতিবেদনে সতর্কতা জারি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পাঁচ-স্তরের স্কেলে, প্রথম (স্বাভাবিক) থেকে পাঁচ (বিপর্যয় বা দুর্ভিক্ষ) পর্যন্ত ইথিওপিয়ায় ২০২৪ সালের শুরুর দিকে চতুর্থ ধাপে (জরুরী) পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে। যাদের বেশিরভাগ টাইগ্রে অঞ্চলে অবস্থিত।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২৪ সালের প্রথম দিকে খাদ্য সহায়তা বিতরণে সুবিধাভোগীদের খাদ্যে কিলো ক্যালরির ঘাটতি কমাবে।

সাহায্যকারী সংস্থাগুলো জানায়, তাদের দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে সাহায্য সহায়তা বাড়াতে হবে।

ইতিমধ্যে, দরিদ্র গ্রামবাসীরা তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করে খাবারের সন্ধান করছে। কিছু কিছু স্থানে শিশুরা ক্ষুধায় দিন পার করছে। অক্টোবরের প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা শোনানোর পরও, সাহায্য দাতারা তাদের পরিকল্পনা দ্রুত করেনি।

এদিকে ইথিওপিয়ান সরকার প্রকৃত অবস্থা অস্বীকার করে জোর দিয়ে বলেছে ‘সব ঠিক আছে’ এ কারণেই আরো বেশি দুর্ভিক্ষের সমস্যায় পড়েছে দেশটি বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ঘোষণা করেছেন, ইথিওপিয়া শুধুমাত্র গমে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, এটি রপ্তানিও করছে। গত মাসে একজন মুখপাত্র টাইগ্রেতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি অস্বীকার করেন।

সম্প্রতি আবি সরকার একটি নতুন জাতীয় প্রাসাদে ১০ বিলিয়ন ডলার এবং সামরিক বাহিনীতে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করছেন। ইথিওপিয়ায় সবচেয়ে বড় দাতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা সহায়তাও কমিয়ে দিয়েছে।

সূত্র-বিবিসি

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৪ জানুয়ারী ২০২৪,/বিকাল ৩:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit