আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই পার্থক্য ১০ ডিগ্রি বা তার কম হলে তাহলে শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। পার্থক্য যদি ৫ ডিগ্রি বা তার কম হয় তাহলে শীতের অনুভূতি আরো তীব্র হয়। অর্থাৎ রাতের কাছাকাছি ঠাণ্ডা দিনেও অনুভূত হয়। যেসব জায়গায় তাপমাত্রার পার্থক্য যত কম সেখানে শীতের অনুভূতির তীব্রতা বেশি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া অধিদপ্তরের তাপমাত্রার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য সবচেয়ে কম। রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ৩ থেকে ৬ ডিগ্রি। ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি। ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে ৬ থেকে ১০ ডিগ্রি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রি, খুলনা বিভাগে ৯ থেকে ১৪ ডিগ্রি এবং বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কিশোরগঞ্জের নিকলিতে, ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় এ সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উত্তরে বেড়েছে শীত, জনজীবনে দুর্ভোগ
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমায় দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, গত দুই দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি কমে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশা, ঠাণ্ডা বাতাস আর কনকনে শীতে বিপাকে পড়েছে জেলার সাধারণ মানুষ। রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বৃষ্টির ফোঁটার মতো শিশির পড়ছে। গত দুই দিনে সূর্যের দেখা মেলেনি। এ পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছে। কনকনে শীতে কাজে বের হতে পারছেন না অনেকে।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলা থেকে শহরের ষষ্টিতলা মোড়ে কাজের সন্ধ্যানে আসা আবুল হোসেন বলেন, ‘গ্রামে খড়কুটো জ্বেলে শীত নিবারণ করি। আর শহরে এসে চিপস ও বিস্কুটের প্যাকেটসহ ময়লা-আবর্জনা দিয়ে আগুন জ্বেলে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করি। তিন দিন ধরে কাজ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উপজেলায় তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। হাড়-কাঁপানো শীতে জবুথবু জনজীবন। কুয়াশা ও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় শীত সর্বনিম্ন তাপমাত্রার চেয়েও বেশি অনূভূত হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কে হেডলাইট ও ফগলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। একই কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে দৃষ্টিসীমা কম থাকায় সকালের ফ্লাইটগুলো দুপুরের পর ওঠানামা করছে।

























