শহিদ আহমেদ খান সাবের,সিলেট প্রতিনিধি : বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকের অন্যতম প্রধান কবি আফজাল চৌধুরী ১৯৪২ সালের ১০ মার্চ হবিগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ষাটের দশকের ‘স্বাক্ষর গোষ্ঠী’র প্রধানতম কবি। তাঁর কবিত্ব শক্তি ও চারিত্রিক বলিষ্ঠতার কারণে তাঁকে নানা অভিধায় অভিহিত করা হয়। তাঁকে ধ্যানী, স্বপ্নচারী, আধ্যাত্মবাদী, পুনর্জাগরণকামী কবি হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কল্যাণব্রত’ (১৯৬৯)-এর নামে তাঁকে কল্যাণব্রতের কবিও বলা হয়।
কবি আফজাল চৌধুরী সিলেটের একটি ক্লিনিকে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁকে দরগাহে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাযার সংলগ্ন গোরস্তানে দাফন করা হয়। কবি আফজাল চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে ৯ জানুয়ারি বাদ আছর সোনারপাড়ার মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। কবি আফজাল চৌধুরী ফাউন্ডেশন ১৫ জানুয়ারি ও সিলেট সাংস্কৃতিক সংসদের পক্ষ থেকে ১৮ জানুয়ারি আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মজীবন: ১৯৬৯ সালে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। কর্মস্থল: প্রথম কর্মস্থল রাজশাহী সরকারী ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (১৯৬৯-‘৭০)। পরবর্তীকালে সিলেট সরকারী এমসি ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (১৯৭০-৭২), চট্টগ্রাম সরকারী ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (১৯৭২-‘৭৩), সিলেট সরকারী কলেজ (বর্তমান সরকারী এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ১৯৭৫-৮০ ও ১৯৯০-৯৫) এবং সিলেট সরকারী মহিলা কলেজে (১৯৮৯-৯০) অধ্যাপনা করেন।
সর্বশেষ কর্মস্থল: প্রিন্সিপাল, হবিগঞ্জ সরকারী বৃন্দাবন কলেজ (১৯৯৬-৯৯)। এ পদে কর্মরত অবস্থায় ১৯৯৯ সালের ৯ মার্চ সরকারী চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। হবিগঞ্জ সরকারী বৃন্দাবন কলেজের প্রিন্সিপাল থাকা অবস্থায় এ কলেজের উন্নয়নে তিনি প্রভৃত অবদান রাখেন এবং ৭টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করেন। মাঝখানে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেষণে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেট ও ঢাকার যথাক্রমে উপ- পরিচালক (১৯৮০-৮১) ও পরিচালক (১৯৮২-৮৪) এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার ‘স্কুলসমূহের পরিদর্শক’ ছিলেন। তিনি ছিলেন ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা ‘উপ-পরিচালক’।
ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ঢাকার ‘পরিচালক’ থাকাকালে সাহিত্য পত্রিকা ‘ঐতিহ্য’ -এর প্রকাশ ও সম্পাদনা; সেমিনার, আলোচনা সভা প্রভৃতির মাধ্যমে দেশের বরেণ্য কবি- সাহিত্যিক- সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নবজাগৃতির সৃষ্টি: ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলন উপলক্ষ্যে ‘আফগানিস্তান আমার ভালোবাসা’ সংকলন গ্রন্থের প্রকাশ প্রভৃতি ছিল তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচায়ক। গ্রন্থপঞ্জি: কবি আফজাল চৌধুরীর এ পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৪টি।
এর মধ্যে কাব্যগ্রন্থ ৮টি, কাব্যনাটক ১টি, প্রবন্ধগ্রন্থ ৪টি, নাটক ১টি ও অনুবাদগ্রন্থ ২টি। বর্তমানে তাঁর অপ্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৪টিরও অধিক। রচনাসমগ্র প্রকাশিত হলে তা দেড় হাজার পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে যাবে। প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্যগ্রন্থ: কল্যাণ ব্রত (১৯৬৯, খ্রি. সং, ২০০৮), শ্বেতপত্র (১৯৮৩), সামগীত দুঃসময়ের (১৯৯১), শবমেহেরের ছুটি (২০০৫), নয়া পৃথিবীর জন্য (২০০৬), বিশ্বাসের দিওয়ান (২০০৭), এই ঢাকা এই জাহাঙ্গীরনগর (২০১১),কাব্যনাটক: হে পৃথিবী নিরাময় হও (১৯৭৯)।
নাটক: সিলেট বিজয় (২০০৫)। প্রবন্ধগ্রন্থ: ঐতিহ্যচিন্তা ও রসূল প্রশস্তি (১৯৭৯, ৪র্থ সং, ২০০৪), তাঁর কাব্যালোকে সৈয়দ আলী আহসান (২০১২), সিলেটে সূফী সাধনা (২০১৩), মক্কার পথ (২০১৫)। অনুবাদগ্রন্থ: বার্নার্বাসের বাইবেল (১৯৯৬, ঘি, সং, ২০০৫)। অনুবাদ কবিতা: জালালউদ্দীন রুমীর কবিতা (২০১৩)। অপ্রকাশিত রচনা: কবিতা- খোশহাল খান খটকের জন্য পক্তিমালা, অন্য গোলার্ধে হৃদয়, শাশ্বতের পক্ষে কবিতা, ঐতিহাসিক মর্সিয়া ও অন্যান্য কবিতা, অনুবাদ কবিতা, আলী শরীয়তীর কবিতা, কাব্যনাটক- বাঁশী, গীতিনকশা- সবুজ গম্বুজে ঢাকা ফুল, নাটক- ক্ষুধিত ক্যাম্পাস, প্রবন্ধগ্রন্থ- কবিতার সংসারে জটিলতা, প্রতিশ্রুত কথকতা, সমকালীন সাহিত্যের ধারা, নান্দনিক ভুবন প্রভৃতি।
কিউএনবি/আয়শা/০৮ জানুয়ারী ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:৩৭