আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে অভূতপূর্ব ধস নেমেছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা ডি সিলভাকে নিয়ে নতুন করে আপত্তিকর মন্তব্য করায় বুয়েন্স আইরেসে নিজেদের কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও কমিয়ে এনেছে ব্রাজিলিয়া।
ব্রাজিলীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি একাধিকবার লুলাকে ‘চোর’ বলে আখ্যা দেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট। দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিকের চেষ্টায় এই কটু মন্তব্য নতুন করে বড় ধাক্কা দিল।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মিলেই ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন শুরু হয়। চলতি বছরের গত জুলাইয়ে এক রাজনৈতিক মঞ্চে লুলাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার পর ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত হুলিও বিতেলিকে বুয়েনস আইরেস থেকে ডেকে পাঠিয়েছিল ব্রাজিলিয়া। এরপর থেকে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। এবার ব্রাজিলীয় কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লুলার বিরুদ্ধে মিলেই আক্রমণাত্মক বক্তব্য বন্ধ না করা পর্যন্ত স্থায়ী কোনো রাষ্ট্রদূতকে আর বুয়েনস আইরেসে পাঠানো হবে না।
সম্প্রতি ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পঘনিষ্ঠ জেইর বলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো আয়োজিত এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মিলেই। সেখানে তিনি লুলার তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরেসকেও কটু ভাষায় আক্রমণ করেন। উল্লেখ্য, ব্যর্থ অভ্যুত্থান মামলায় ২৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বলসোনারোর সাথে দেখা করার জন্য মিলেই যে আবেদন করেছিলেন, তা নাকচ করে দেন বিচারপতি মোরেস।
বিতর্কিত এসব মন্তব্যের পর ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট লুলু ডি সিলভা নিজে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর।
এদিকে আঞ্চলিক রাজনীতির এই উত্তেজনা ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও ব্রাজিলিয়ার নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্রাজিলের সরকারি দল ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্বেগের মাঝেই বুয়েনস আইরেস ও ওয়াশিংটনের সাথে দূরত্ব দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে।
সূত্র: আল মায়াদিন
কিউএনবি/অনিমা/০৫ অগাস্ট ২০২৬,/দুপুর ১২:১৬