শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন

ট্রেনে আগুনের পরিকল্পনা কীভাবে হয়, জানালেন ডিবির হারুন

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১০৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : পুরান ঢাকার গোপীবাগে শুক্রবার রাতে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মধ্যরাতে ঢাকার জুরাইন রেললাইন সংলগ্ন বস্তি থেকে ককটেল ও পেট্রল বোমাসহ তিনজনকে আটকের কথা জানিয়েছে র্যাব।  এছাড়া ওই ট্রেনের দুই যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ। 

ডিবিপ্রধান বলেন, ‘কাজী মনসুরকে গ্রেফতারের পর তার কাছে আমরা দুটি বিষয় জানতে পেরেছি। তার বড় ভাই, বড় মাপের নেতা এনামুল ইসলাম খন্দকার ও রবিউল ইসলাম নয়ন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে টাকা, ককটেল ও বিস্ফোরক দ্রব্য বিতরণ করেছে; নির্বাচনি ক্যাম্পগুলোতে তারা আগুন লাগাবে। ককটেল বিস্ফোরণ করবে, উদ্দেশ্য কেউ যেন ভোটকেন্দ্রে না আসে। এই পরিকল্পনায় জড়িত পাঁচজনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা ও ২০ পিস ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।’

নবী উল্লাহ নবীকে অর্থদাতা হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

হারুন বলেন, ‘দুই দিন আগে তাদের হাইপ্রোফাইল ভিডিও কনফারেন্স ছিল। সেখানে প্রথমে আসে মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনাম। তারপর আসে সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ গাফফার ও ইকবাল হোসেন বাবলু, দপ্তর সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী এবং যুবদলের আটটি টিমের লিডার।

ডিবিপ্রধান আরও বলেন, ‘সেই কনফারেন্সে ছিলেন কাজী মনসুর। কনফারেন্সে এক পর্যায়ে বলা হলো, বৃহত্তর ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেনে; বিশেষ করে নরসিংদীর কাছে এসে সুবিধাজনক জায়গায় অগ্নিসংযোগ করা। আরেকটি হলো কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ রুটে যাত্রীবাহী বগিতে অগ্নিসংযোগ করা; যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়, জনগণ চূড়ান্তভাবে ভীত হয়।’ 

তিনি বলেন, ‘রবিউল ইসলাম নয়নের তত্ত্বাবধায়নে যুবদলের কয়েকটি টিম লিডার বৃহত্তর কয়েকজন দাগি বোমা সন্ত্রাসী দিয়ে; ভিডিও কনফারেন্সের এক পর্যায়ে তারা বলছিল, আগুন লাগাতে হবে ট্রেনে, আপনাদের কে রাজি আছেন? ১০-১২ জনের মধ্যে একজন শুধু বললো, আমি পারব। এই মুহূর্তে আমি নাম বলছি না। ২০১৩-১৪ সালে বাংলামোটর এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ করেছিল এ রকম তিনজনকে তারা ঠিক করে। তাদের নামও আমাদের কাছে আছে।’

হারুন বলেন, ‘তিনজন ও ভিডিও কনফারেন্সের একজন মিলে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আগুন লাগানোর ব্যবস্থা করেছে। আমরা নাম-নম্বর পেয়েছি, রাজনৈতিক পরিচয় জানতে পেরেছি। প্রকৃত আসামিদের আমরা গ্রেফতার করব। এ ঘটনায় নবী উল্লাহ নবীর সম্পৃক্ততা আমরা পাচ্ছি। তাকেও আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব।’

ডিবিপ্রধান বলেন, ‘একটি গ্রুপ ভিডিও কনফারেন্সে এসে কারা কারা ঘটনা ঘটাবে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরেকটি গ্রুপ হচ্ছে দূর থেকে পরামর্শ ও অর্থদাতা। পরামর্শ ও অর্থদাতা হিসেবে আমরা যাদের নাম পেয়েছি তার মধ্যে এক নম্বর হচ্ছেন নবী উল্লাহ নবী। তাকে আমরা গ্রেফতার করেছি।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে আরও দুইজনের গ্রেফতারের কথা জানানো হয় ডিএমপির পক্ষ থেকে। গ্রেফতার আটজন হলেন—ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নবী উল্লাহ নবী, দক্ষিণ যুবদলের সদস্য মোহাম্মদ মনসুর আলম, কামরাঙ্গীর চর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল, লালবাগ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন স্বপন, বিএনপি নেতা কবির, দেলোয়ার, হাসান, সালাউদ্দিন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৬ জানুয়ারী ২০২৪,/বিকাল ৫:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit