এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। এ বছর কার্তিক মাসের মাঝামাঝি থেকেই শুরু হয়েছে দিনে গরম, রাতে বেশ ঠান্ডা আর ভোরে হালকা কুয়াশা। ভোরে দুব্রাঘাস ও লতাপাতার ডগায় জমে থাকা হালকা শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শীত আসার আগেই সবাই প্রস্তুতি নেয় ঠান্ডা মোকাবেলার জন্য। আর সে জন্যই ব্যস্তহয়ে পড়েন লেপ-তোশক তৈরী কারিগররা। ভিড় লেগে যায় লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে।
এবার শীতের আমেজ একটু আগেভাগেই শুরু হয়েছে। বেশ কয়েক দিন ধরে কুয়াশাসহ ঠান্ডা হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। শীতের আগমনে লেপ-তোশক তৈরিতে যার যার সাধ্য অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে সবাই। গ্রামের ঘরে ঘরে চলছে শীতের আগাম প্রস্তুতি লেপ-তোশক তৈরীর কাজ। এর পাশাপাশি উপজেলার ছোট-বড় বাজার গুলোর লেপ-তোশকের দোকানগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা ।
রবিবার (৩ ডিসেম্বর) সরেজমিন উপজেলার সলুয়া, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, নারায়নপুর, হাকিমপুর, চাদপাড়া, পুড়াপাড়া বাজারসহ চৌগাছা পৌর শহরের লেপ-তোশকের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, যে লেপ-তোশকের দোকানগুলো সারা বছর ক্রেতাশূন্য থাকত এখন সেগুলোতে খুব ভিড়। সেই প্রতিটি দোকানেই দেখা যায় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারিগরের পাশাপশি দোকানিদের ব্যস্ততাও চোখে পড়ার মতো।
তারা ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নিচ্ছেন। ক্রেতাদের বিভিন্ন রং ও মানের কাপড় ও তুলা দেখাতে মহাব্যস্ত সবাই। তারা জানান শীত বাড়ার সাথে সাথে ব্যস্ততা আরো বাড়বে। চৌগাছা বাজারের জননী এন্ড সন্স বেডিং সপের করিগর রুহান হোসেন বলেন, এই দোকানে ৩ তিনবছর যাবৎ কাজ করছি। গত বছর আমার মাসিক বেতন ছিল ছয় হাজার টাকা, বর্তমান ৮,০০০ হাজার টাকা। তিনি বলেন,বর্তমানে কালো তুলা ৩০ টাকা, কালার তুলা ৫০ টাকা। সাদা তুলা ৯০ টাকা, ফম তুলা ১৫ টাকা কেজি।
এ বিষয়ে চৌগাছা বাজারের লেপ-তোশক ব্যবসায়ী রিপন হোসেন জানান, গত বছরের চেয়ে তুলা ও কাপড়ের দাম বৃদ্ধির কারণে দামও বেড়েছে। সাথে সাথে কারিগরদেরও মুজুরি বেশি দিতে হচ্ছে। তবে গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর বেচা-কেনা বেড়েছে। লেপ-তোশক কারিগর পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন বছরের এ সময় চাহিদা বাড়ে। সারাবছর অর্ডার কম থাকে ফলে তৈরী ও বেচা-কেনা কম হয়। সারা বছর বসেই সময় কাটাতে হয়। তবে এবার শীত একটু আগেই শুরু হয়েছে। ক্রেতাদের লেপ-তোশক বানাতে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। লেপ-তোশকের চাহিদা শীতেই বেশি। ক্রেতাদের আনাগোনা চলবে পুরো শীতজুড়ে। এই সময়ের আয় দিয়েই সারা বছর আমাদের সংসার চলে। আগের চেয়ে লেপ-তোশক তৈরীর উপকরনের দাম অনেক বেড়েছে।
ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে প্রতি গজ কাপুড়ে ২০ টাকা, সুতা কেজি প্রতি ৫০ টাকা, তুলা কেজি প্রতি ৩০ টাকা বেড়েছে। ফলে আকার অনুযায়ী লেপ-তোশক তৈরিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি। এদিকে প্রতিটি লেপ-তোশক তৈরীতে মজুরি বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা। সারা বছর এই গরম জিনিসের ব্যবসা একটু কম। শীত এলে এর চাহিদা বাড়ে। আগের চেয়ে তুলা, কাপড়, কারিগরের মজুরি বেশি হওয়ায় লেপ-তোশকের দামও বেড়েছে।
তবে কাপড়, তুলার মান ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে খরচ বেশি-কম হয়। আগে যে লেপ ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হতো তা এখন ১৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে একটি ভালো মানের লেপ তৈরি করতে খরচ হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। এ ছাড়া ভালো মানের তোশক তৈরি করতে খরচ হয় তিন থেকে চার হাজার টাকা। গত বছর ভালো মানের লেপ তৈরিতে খরচ হয়েছে এক থেকে দুই হাজার টাকা। আর তোশক তৈরিতে দেড় থেকে তিন হাজার টাকা। একটি লেপ-তোশক বিক্রি করলে আমাদের তিন থেকে চারশ টাকার বেশি লাভ হয় না। শীতের তীব্রতা বাড়লে লেপ-তোশকের চাহিদা আরো বাড়বে।
কিউএনবি/আয়শা/০৩ ডিসেম্বর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৬:৩৫