মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১ নভেম্বর পৌর মেয়র লোকমান হোসেনকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।এ হত্যার ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. কামরুজ্জামান কামরুল বাদী হয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। প্রধান আসামি করা হয় তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ছোট ভাই সালাহউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মণ্ডল প্রায় দীর্ঘ ৮ মাস তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২৪ জুন সালাহউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ এজাহারভুক্ত ১১ আসামিকে বাদ দিয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এতে মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি শহর আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন ওরফে মোবা, এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি নরসিংদী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবদুল মতিন সরকার, তার ছোট ভাই শহর যুবলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সরকারসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।এদিকে মামলার আসামিদের মধ্যে মোবারক হোসেন মোবা পলাতক ছিলেন। বাকি ১৩ জনের সকলেই গ্রেপ্তার হলেও অভিযোগপত্র দাখিলের আগেই সবাই আদালতের মাধ্যমে জামিনে বের হয়ে যান। দীর্ঘ ৭ বছর পর ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর মোবারক হোসেন মোবাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনিও বর্তমানে জামিনে মুক্ত। এরইমধ্যে ২০২১ সালে অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি আবদুল মতিন সরকার দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা গেছেন।বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদ আলী বলেন, মামলাটি বর্তমানে বিচারিক তদন্তাধীন রয়েছে। আগামি ২ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।এদিকে মেয়র লোকমান হোসেন হত্যার ১২তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বুধবার বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে নরসিংদী জেলা ও শহর আওয়ামী লীগ এবং জনবন্ধু লোকমান হোসেন ফাউন্ডেশন। এসব সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন লোকমান হোসেনের সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও গণভোজসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
কিউএনবি/অনিমা/০১ নভেম্বর ২০২৩,/বিকাল ৩:০৭