শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষবিদায় ডিমের কুসুম খেলে কি হার্টের সমস্যা বাড়তে পারে? নাভি পিল্লের নোবেল জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কচ্ছপের স্বর্গ আলদাব্রা, সংখ্যায় ছাড়াল সেশেলসের মানুষকেও চীনের সংশোধিত প্রতিরক্ষা মোবিলাইজেশন আইনের আওতায় প্রায় সব খাত বর্বরতার পথে যুক্তরাষ্ট্র? ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড লাইভ সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক দুর্গাপূজায় আতঙ্ক নয়, নিরাপত্তায় সজাগ থাকবে বিএনপি: গয়েশ্বর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে দাবা প্রতিযোগিতা চার তরুণের উদ্যোগে ‘সবুজ’ বাঁশবাড়ি, মুগ্ধ পরিবেশমন্ত্রী ঋতু পরিবর্তনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাবেন যে ৫ খাবার

প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা পরিকল্পিত: কায়সার কামাল

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১১২ Time View

ডেস্ক নিউজ : বিএনপির সমাবেশ পণ্ড করতে সরকারদলীয় অঙ্গ সংগঠনের নেতারা পরিকল্পিতভাবে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা করেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দক্ষিণ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ সারা দেশের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

কায়সার কামাল বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আপনারা (সাংবাদিকরা) সবাই অবগত আছেন। নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন পরিচালনা করা বাংলাদেশের সংবিধানসিদ্ধ একটি মৌলিক অধিকার। কোনো সংগঠনে যোগদান ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনও একজন নাগরিকের স্বেচ্ছাধীন বিষয়। তিনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ছিল। বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে ঢাকায় সভা-সমাবেশের ক্ষেত্রে ডিএমপি কমিশনারের অনুমতির আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবুও সমাবেশের বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে ডিএমপি কমিশনারকে বেশ আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়; কিন্তু অতীতের মতো এ সমাবেশ বানচালের লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দল পুলিশকে ব্যবহার করে তথাকথিত অনুমোদনের নামে নানা ছলচাতুরী করতে থাকে।

সমবেশের আগের রাতে তথাকথিত ককটেল উদ্ধারের নাটক সাজানো হয় মন্তব্য করে কায়সার কামাল বলেন, সমাবেশের এক সপ্তাহ আগে থেকে সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। দেওয়া হয় মিথ্যা মামলা। পথে পথে হয়রানি করা হয়। এমনকি সমবেশের আগের রাতে তথাকথিত ককটেল উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে এবং বিভিন্ন পুরোনো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মহাসমাবেশের দিন ১ হাজার ২০০ জনের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শত বাধা, মামলা-হামলা উপেক্ষা করে লাখ লাখ জনতা বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দেন। এতে হতবিহ্বল হয়ে ক্ষমতাসীন দল সেই পুরোনো খেলায় মেতে উঠে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে বানচালের জন্য পুলিশ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ কাকরাইল মোড়ে বিএনপির সমাবেশে আসা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করে। একই সঙ্গে সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনী সরকারি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে করতে নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ বানচালে লিপ্ত হয়।

বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক বলেন, শুধু ২৮ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে ডিএমপির অধিভুক্ত বিভিন্ন থানায় ২৮টি মামলা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। পুলিশ কনস্টেবল মো. আমিরুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে সহস্রাধিক অজ্ঞাত বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পল্টন থানায় হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। অথচ যুবদল নেতা শামিম মোল্লা, সিনিয়র সাংবাদিক রফিক ভূঁইয়ার হত্যা নিয়ে কোনো মামলা হয়নি।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে সারা দেশের ১৭ জন আইনজীবীকে। অন্যান্য নেতাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত। বিএনপি নেতাদের বাসায় না পেয়ে তাদের স্বজনদের ধরে আনা হয়েছে। তথাকথিত ক্রাইম জোন ঘোষণা করে বিএনপি অফিস বন্ধ করে রাখা হয়েছে, যাতে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এটা অবিশ্বাস্য যে, পুলিশ এই বিপুলসংখ্যক নেতাদের নাম, ঠিকানা, পিতা-মাতার নাম পর্যন্ত উল্লেখ করেছে। পূর্ব প্রস্তুতি ও পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া এটা কখনই সম্ভব না। তিনি বলেন, বিএনপির মতো একটি জনপ্রিয় দলকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে প্রমাণের জন্য তথাকথিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে সঙ্গে বিএনপির জাতীয় নেতা ও অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের আসামি করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, অসংখ্য নেতাকর্মীকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে, যাতে যে কাউকে এসব মামলায় যখন-তখন গ্রেফতার করা যায়। প্রধান বিচারপতির বাসভবনে কথিত ভাঙচুরের ঘটনাটিও এই নাটকের অংশ, যেন বিএনপি নেতাকর্মীরা বিচার বিভাগ থেকে কোনো ন্যায়বিচার না পান। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তা না হলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে কথিত ভাঙচুরের ঘটনায় আমাদের দায়িত্বশীল পাঁচজন সিনিয়র আইনজীবী সদস্যকে কেন আসামি করা হবে? আমরা এই নীলনকশা প্রণয়নকারীদের প্রতি ধিক্কার জানাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারি দল ও তাদের যথেচ্ছ ব্যবহৃত সরকারি বাহিনীর এমন অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসঙ্গে তথাকথিত রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ সারা দেশের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০ অক্টোবর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit