শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

নবীজির কথা কাফেররা যেমন বিশ্বাস করত

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১৮৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : েকাফেররা নবীজির কথার সত্যায়ন এ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলো, তিনি বর্তমানে যা বলছেন তাতো নিশ্চয় বিশ্বাস করতোই। এমনকি ভবিষ্যত বিষয়ে কিছু বললে তা-ও তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতো। এই ঘটনাটি পড়লেই আমরা বুঝতে পারব যে- ওই যুগে মক্কার কাফেররাও নবীজিকে কেমন বিশ্বাস করতেন।  

সা’দ ইবনু মু’আয (রা.) বলেন- তার ও মক্কার মুশরিক উমাইয়া ইবনে খালফের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। উমাইয়া মদিনায় আসলে সা’দ ইবনু মু’আযের অতিথি হতেন এবং সা’দ  মক্কায় গেলে উমাইয়ার আতিথেয়তা গ্রহণ করতেন। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করার পর একদা সা’দ  উমরা করার উদ্দেশ্যে মক্কা গেলেন এবং উমাইয়ার বাড়িতে অবস্থান করলেন। 

তিনি উমাইয়াকে বললেন, আমাকে এমন একটি নিরিবিলি সময়ের কথা বল যখন আমি শান্তভাবে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারব। তাই দ্বি-প্রহরের সময় একদিন উমাইয়া তাকে সঙ্গে নিয়ে বের হল, যখন তাদের সঙ্গে আবু জাহেলের দেখা হল। তখন আবু জাহেল উমাইয়াকে লক্ষ্য করে বলল, হে আবু সাফওয়ান! তোমার সাথে ইনি কে? 

সে বলল, ইনি সা’দ ইবনু মু’আয। তখন আবু জাহেল তাকে সা’দ ইবনু মু’আযকে লক্ষ্য করে বলল, আমি তোমাকে নিঃশঙ্ক চিত্তে ও নিরাপদে মক্কায় তাওয়াফ করতে দেখেছি অথচ তোমরা ধর্মত্যাগীদের আশ্রয় দান করেছ এবং তাদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করে চলেছ। আল্লাহর কসম, এ মুহূর্তে তুমি আবু সাফওয়ানের উমাইয়া সঙ্গে না থাকলে তোমার পরিজনদের কাছে নিরাপদে ফিরে যেতে পারতে না।

তখন সা’দ এর চেয়েও অধিক উচ্চস্বরে বললেন, আল্লাহর কসম, তুমি এতে যদি আমাকে বাঁধা দাও তাহলে আমিও এমন একটি ব্যাপারে তোমাকে বাঁধা দেব যা তোমার জন্য এর চেয়েও ভীষণ কঠিন হবে। মদিনার উপকন্ঠ দিয়ে তোমার ব্যবসা বাণিজ্যের বৃহত্তম কেন্দ্র সিরিয়ায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেব। 

তখন উমাইয়া তাকে বলল, হে সা’দ!  এ উপত্যাকার প্রধান সর্দার আবুল হাকামের আবু জাহেল সঙ্গে এরূপ উচ্চস্বরে কথা বলো না। 

তখন সা’দ  বললেন, হে উমাইয়া! তুমি চুপ কর। আল্লাহর কসম, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তারা তোমার হত্যাকারী। উমাইয়া জিজ্ঞাসা করল, মক্কার বুকে? সা’দ  বললেন, তা জানিনা। 

উমাইয়া এতে ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। এরপর উমাইয়া বাড়ী গিয়ে তার স্ত্রীকে ডেকে বলল, হে উম্মে সাফওয়ান! সা’দ আমার সম্পর্কে কি বলছে জানো? সে বলল, সা’দ তোমাকে কি বলেছে? 

উমাইয়া বলল, সে বলেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জানিয়েছে যে, তারা আমার হত্যাকারী। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তা কি মক্কায়? সা’দ বলল, তা আমি জানিনা। এরপর উমাইয়া বলল, আল্লাহর কসম, আমি কখনো মক্কা থেকে বের হব না।

কিন্তু বদর যুদ্ধের দিন সমাগত হলে আবু জাহেল সর্বস্তরের জনসাধারণকে সদলবলে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলল, তোমরা তোমাদের কাফেলা রক্ষা করার জন্য অগ্রসর হও। 

উমাইয়া মক্কা ছেড়ে বের হওয়াকে অপছন্দ করলে আবু জাহেল এসে তাকে বলল, হে আবু সাফওয়ান। তুমি এ উপত্যাকার আধিবাসিদের একজন নেতা, তাই লোকেরা যখন দেখবে তুমি যুদ্ধ যাত্রায় পেছনে বয়ে গেছ তখন তারাও তোমার সাথে এ বলে পেছনেই থেকে যাবে। এ বলে আবু জাহেল তার সাথে পীড়াপীড়ি করতে থাকলে সে বলল, তুমি যেহেতু আমাকে বাধ্য করে ফেলেছ তাই আল্লাহর কসম অবশ্যই আমি এমন একটি উষ্ট্র ক্রয় করব যা মক্কার সবচাইতে ভাল। 

এরপর উমাইয়া তার স্ত্রীকে বলল, হে উম্মে সাফওয়ান; আমার সফরের ব্যবস্থা কর। তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, হে আবু সাফওয়ান! তোমার মদিনাবাসী ভাই যা বলেছিলেন তা তুমি ভুলে গিয়েছ কি? সে বলল, না। আমি তাদের সাথে কিছু দূর যেতে চাই মাত্র। 

রওয়ানা হওয়ার পর রাস্তায় যে মনজিলেই উমাইয়া কিছুক্ষণ অবস্থান করেছে সেখানেই সে তার উট বেঁধে রেখেছে, গোটা পথেই এরূপ সে করল পরিশেষে বদর প্রান্তরে আল্লাহর হুকুমে সে মারা গেল। 

নবীজির ভবিষ্যত কথা শোনে উমাইয়া এবং তার স্ত্রী বিন্দুমাত্র সন্দেহ করে নি। তাই উমাইয়া মরণ ভয়ে নিজ থেকেই ঘরবন্দী হয়ে যায়। অন্য হাদিসে এই ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এসেছে।  

শাইখ সালেহ আহমদ শামীর ‘মিন মায়িনিশ শামায়েল’ বই থেকে অনুবাদ করেছেন- মুহাম্মদ মিযান বিন রমজান

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৪ অক্টোবর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৬:৫৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit