স্পোর্টস ডেস্ক : লা লিগা ম্যাচে আথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত গোল পায়নি বার্সেলোনা। এরপর মৌসুমে পাঁচ ম্যাচ খেলা ফেরান লোপেজের বদলি হিসেবে নামলেন মার্ক গিউ। নামটি হয়তো আপনি আগে শুনেননি। রবিবারই বার্সেলোনার হয়ে অভিষেক হলো ১৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মাঠে নামার ২৩ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করে নিজের নাম বার্সার ইতিহাসের পাতায় লিখিয়েছেন।
বার্সার একাডেমিতে বেড়ে ওঠা গিউ গড়েন দারুণ একটি রেকর্ডও। মাত্র ১৭ বছর ২৯১ দিন বয়সে লা লিগায় খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই গোল পেয়ে গেছেন তিনি। চলতি শতাব্দীতে বার্সেলোনার হয়ে লিগ অভিষেকে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার তিনি।
রবার্ট লেভানডফস্কি, ডি ইয়ংদের চোট হুট করেই মূল দলে সুযোগ করে দেয় গিউকে। গিউকে মাঠে নামানোর আগে কোচ জাভি হার্নান্দেজ তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি একটি সুযোগ পাবে এবং সেটিতেই গোল করতে হবে।’ কথা রেখেছেন গিউ। মাঠে নামার ২৩ সেকেন্ডের মধ্যে প্রথম বল পেয়েই গোল করেন। তার গোল গ্যালারি থেকে উদযাপন করতে দেখা গেছে লেভানডফস্কি, ডি ইয়ংদের। ধারাভাষ্যকার বলছিলেন, ‘নো লেভানডফস্কি নো প্রবলেম।’
বার্সা যুব একাডেমির সেন্টার ফরোয়ার্ড গিউ। বার্সেলোনার অ্যাকডেমিতে তিনি যোগ দেন মাত্র সাত বছর বয়সে। স্পেনের হয়ে নানা বয়সভিত্তিক স্তরে খেলেন। গ্রীষ্মকালিন অনূর্ধ্ব-১৭ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন। অপরজনও বার্সেলোনায় খেলা ইয়ামেল। কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেকটা দ্রুতই হলো তার। গিউ মূল দলে খেলার আগে বার্সা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে খেলেছেন, খেলেছেন তৃতীয় বিভাগে খেলা বার্সার রিজার্ভ দল বার্সেলোনা অ্যাথলেটিকেও। সব মিলিয়ে গিউ ম্যাচ খেলেছেন ৯টি।
স্মরণীয় ম্যাচশেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন গিউ, ‘আমি নিঃশ্বাসই নিতে পারছি না! আমি কেবল এই মুহূর্তটি উপভোগ করছি। আমি এখনও যেন আকাশে উড়ছি! আমি পুরো মৌসুম কঠোর পরিশ্রম করেছি কোনো সুযোগ সামনে এলে তা কাজে লাগানোর আশায়। যখন আমি গোলকিপারকে পোস্ট ছেড়ে সামনে এগোতে দেখলাম, আমি শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।’
বার্সেলোনার হয়ে অভিষেকে গোল করবেন, এমন স্বপ্ন সব সময়ই দেখেছেন গিউই। বলেন, ‘এমন কিছুর স্বপ্ন যে আমি কতবার দেখেছি। প্রায় প্রতি রাতেই। (গোলের মুহূর্ত) হুট করেই যেন ঘটে গেল। আমি ভাবারও সময় পাইনি। আমার মন বলছিল গোল হয়ে যেতে পারে। ফেলিক্স আমাকে বলটা দিলেন, উনাই সিমনের বিপক্ষে আমি গোল করে ফেললাম। এত বড় মাপের একজন গোলকিপারের বিপক্ষে গোল করতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের।’
বার্সেলোনার কোচ জাভি হার্নান্দেজ নতুন শিষ্যের প্রশংসায় বলেন, ‘সে গোল করতে পারে, তার মধ্যে সেই তেজ আছে। সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক পছন্দ করি। আর একাডেমিতে বেড়ে ওঠা স্থানীয় খেলোয়াড়দের কাজে লাগাতে আমার কোনো দ্বিধা নেই।’
গিউ গোল করেছেন মাঠে নামার ২৩ সেকেন্ডে। এটি দ্রুততম নয়। তবে দ্রুততম কিছু গোল দেখে নেওয়া যাক। লা লিগার দ্রুততম গোলটি হোসেবা লরেন্তের। ভায়াদোলিদের হয়ে করেছিলেন এস্পানিওলের বিপক্ষে ৭.২২ সেকেন্ডে। অভিষেকে দ্রুততম গোলের রেকর্ড ফ্রেডি ইস্টউডের। ৭.৭ সেকেন্ডে করেছিলেন সাউথএন্ড ইউনাইটেডের হয়ে সোয়ানসি সিটির বিপক্ষে। রিয়াল মাদ্রিদে খেলা ভিনিসিউস জুনিয়র চ্যাম্পিয়নস লিগে বদলি নামার ১৪ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করেছিলেন ২০২০ সালে, শাখতারের বিপক্ষে। প্রিমিয়ার লিগে বদলি নামার পর দ্রুততম গোলটি আন্তনিও সিবিয়ার্সকির। ২০০৮ সালে উইগানের হয়ে ডার্বির বিপক্ষে গোল করেছিলেন মাত্র ১৫ সেকেন্ডে।
কিউএনবি/আয়শা/২৩ অক্টোবর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:০৫