শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে পাড়া-মহল্লায় জুয়ার মহোৎসব

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১৭১ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে শুরু হয়েছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। এ উপলক্ষে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে যেমন উন্মাদনা বেড়েছে তেমনি গাজীপুরের শিল্পনগরী টঙ্গীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লা জুয়ার মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ ঘিরেই এলাকার দোকান, রেস্তোরাঁ, ক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর বসছে।

শুধু ওয়ানডে বিশ্বকাপ ক্রিকেট নয়, যে কোনো আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট, টেস্ট ক্রিকেট, টি-২০, বিপিএল, আইপিএল ও দেশ-বিদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগের খেলা শুরু হলেই এলাকায় জুয়ার মহোৎসব শুরু হয়ে যায়। কোন দল জিতবে, কোন খেলোয়াড় কত রান করবে, কোন বোলার কয়টা উইকেট নেবে, বলে উইকেট পড়বে কিনা, বলে ৪ না ৬ রান হবে এমন অনেক বিষয় নিয়ে বাজি (জুয়া) ধরা হয়।

এ ধরনের জুয়া খেলোয়াড়দের স্থান ও অর্থের পরিমাণের ভিত্তিতে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, যারা নগদে ২০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে কোনো দোকান, হোটেল বা ঘরে বসে জুয়া খেলে। দ্বিতীয়ত, বিকাশ ও নগদে যারা ২ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে নিরিবিলি পরিবেশ বা অফিসে বসে বাজি বা জুয়া খেলে। তৃতীয়ত, ২০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খেলা হয় এ জুয়া।

লোভের বশবর্তী হয়ে দিনমজুর, রিকশাচালক, চাকরিজীবী এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এ জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। এদের কেউ কেউ নিজের কষ্টার্জিত অর্থ, বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি ও ঋণ নিয়ে জুয়া খেলে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। অনেকে আবার জুয়া খেলার অর্থের যোগান দিতে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। মূলত তরুণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যেই এ জুয়ার আসক্তি সবচেয়ে বেশি।

গত ৭ আগস্ট ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়া পরিচালনার দায়ে এরশাদনগর থেকে শাহীন আলম (২৫) গ্রেফতার হয়। পুলিশ জানায়, পেশাগত কোনো কাজ না করেও গাড়ি-বাড়ির মালিক শাহিন। তার তিনটি ব্যাংক হিসাবেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলেন স্টেশন রোড এলাকার হোটেল কর্মচারী সবুজ। তিনি জানান, আগে মুখেমুখে জুয়া খেলতাম এখন নেটে খেলা হয়। এ খেলায় নিজের কামানো টাকা, বাড়ির গরু-ছাগল সব বিক্রি করেছি। এখন নিঃস্ব, টাকা নেই তাই খেলি না।

মিলগেট এলাকার চা দোকানি হারুন অর রশীদ জানান, ক্রিকেট খেলা না ছাড়লে দোকানের মালামাল বিক্রি হয় না। তাই বাধ্য হয়ে খেলা শুরু হলেই টিভি ছাড়ি। এখন পর্যন্ত পুলিশ বাধা দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেরেবাংলা রোডের এক বাসিন্দা জানান, পুলিশ এসব চিহ্নিত দোকান থেকে দৈনিক মাসোহারা তুলছেন বলেই চা বা মুদি দোকানে জুয়ার আসর বসতে পারছে। এসব দোকানের বিরুদ্ধে কথা বললে পুলিশ দিয়ে হয়রানির হুমকি দেয় জড়িত অনেকেই।

এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় একশ্রেণির অসাধু লোক এ জুয়ার আসর বসায়। পুলিশ ইচ্ছা করলে এ জুয়ার আসর বন্ধ করে দিতে পারে। গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মাহবুবুজ্জামান বলেন, পুলিশ এ ব্যাপারে ব্যাপক তৎপর রয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৯ অক্টোবর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৬:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit