শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ন

প্রিয় নবীজিকে (সা.) কেন ভালোবাসতে হবে?

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০২৩
  • ১০৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : পৃথিবীতে যখন ফেতনা-ফাসাদ অন্যায়- অবিচার চরম আকার ধারণ করেছিল। পুরো পৃথিবী ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। কোথাও সুবিচার ছিল না কোথাও শান্তি ছিল না।

আবদ্ধ ছিল শিরিক ও কুফরের বেড়াজালে।  জাতির এমন চরম দুর্দিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হেদায়েতের বানী দিয়ে সমগ্র পৃথিবীর রহমত বানিয়ে প্রেরণ করেন।

পবিত্র কুরআনুল কারিমে মহানবীকে (সা.) উদ্দেশ্য করে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে পুরো বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া, আয়াত:১০৭)

এই পৃথিবীতে কেউ কাউকে অকারণে ভালোবাসে না। যদি কোন মানুষের মধ্যে ভালোবাসার মতো গুণ, বৈশিষ্ট্য, বিশেষত্ব ও অসাধারণত্ব বিদ্যমান থাকে, তাহলেই কেবল তাকে ভালোবাসে। 

বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে ভালোবাসার মতো সমুদয় স্বভাব,  নৈপুণ্য, দক্ষতা, পূর্ণতা ও যোগ্যতা  বিদ্যমান ছিল। পৃথিবীতে যত সুন্দর গুণ রয়েছে সকল গুণের সমাহার  তার মাঝে ছিল।  

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতকে হৃদয় দিয়ে ভালবাসতেন। তিনি সব সময় নিজের উম্মতের কল্যাণ কামনা করতেন। 
 
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াতে দু’হাত তুলে কেঁদে কেঁদে উম্মতের জন্য দোয়া করছেন। ‘হে আল্লাহ, আমার উম্মত! আমার উম্মত!!

আখেরাতেও উম্মতের জন্য মহান আল্লাহর কাছে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে সুপারিশ করবেন।

উম্মতের হেদায়েত লাভে তার দরদ ও আত্মত্যাগ বুঝবার জন্য কুরআনের এই একটি আয়াতই যথেষ্ট, ‘এরা এই বাণী বিশ্বাস না করলে সম্ভবত এদের পেছনে ঘুরে তুমি দুঃখে আত্মবিনাশী হয়ে পড়বে। ’(সূরা কাহ্ফ, আয়াত:৬)

এটা থেকেও নবীজির নিঃস্বার্থ দরদ সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, নবীজি উম্মতের প্রতি পিতার মত দরদী ছিলেন, কিন্তু তাদের সম্পদের ওয়ারিশ না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য। (সহিহ ইবনে খুযাইমা, হাদিস: ৮০)

জান্নাতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থাকার অন্যতম উপায় হলো তাকে ভালোবাসা। কেননা যে ব্যক্তি যাকে ভালোবাসে তার সঙ্গেই তার হাশর হবে।
  
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে যাকে ভালোবাসে পরকালে সে তার সঙ্গেই থাকবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৬১১)

রাসূলুল্লাহকে (সা.) ভালোবাসা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির ওপর তাকে ভালোবাসা অত্যাবশ্যক। মুমিনের জীবনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বতের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসূলুল্লাহ সা. এর মহব্বত মুমিনের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। এই  মহব্বত ছাড়া না ঈমানের পূর্ণতা আসে না।

রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না তার কাছে আমি তার পিতামাতার চেয়ে, সন্তানাদির চেয়ে এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে প্রিয় না হবো। (বুখারি, হাদিস : ১৫) 

হাদিসের ব্যাখ্যায় খ্যাতিমান মুহাদ্দিস কাজী আয়াজ (র.) বলেন, ‘নবীকে (সা.) ভালোবাসা ইমান বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত।’ (ফাতহুল বারি: ১/৫৯) 

কুরআন ও হাদিসে নবী করিমের (সা.) প্রতি ভালোবাসা অনুসরণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) নবীকে (সা.) তাদের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। নবীজির সুখে তারা সুখী হতেন নবীজির ব্যথায় তারা ব্যথিত হতেন।

প্রিয় নবীর (সা.) প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পথ হলো- তার দেখানো রাস্তা ও রেখে যাওয়া আদর্শের অনুসরণ, অনুকরণ ও আনুগত্য। আর এর মাধ্যমেই মুমিন বান্দার জন্য দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভ করা। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা এ ভালোবাসার কথাই তুলে ধরেছেন।
 
আল্লাহ তাআলা বলেন, (হে নবী! মানুষকে) বলে দাও, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবেসে থাক, তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৩১)
 
তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি কে ভালোবেসে তার আদর্শ বাস্তবায়ন করাই হবে মুমিনের জীবনে সফলতা। নবীজির জন্ম মাসে মুমিন মুসলমানকে এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে যে,  তার আদর্শ বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে। দুনিয়াতে ইসলামের শান্তি ও সৌন্দর্য তুলে ধরতে হবে। 

মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে নবীজিকে (সা.)ভালোবেসে তার আদর্শ বাস্তবায়ন করার তাওফীক দান করুন, আমীন!

লেখক: শিক্ষক, জামিয়া মিফতাহুল উলূম নেত্রকোনা

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০২ অক্টোবর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৬:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit