স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : একেতো প্রচন্ড গরম, তার ওপর বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে যশোরের মনিরামপুরে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে চলতি এইচএসসি পরিক্ষার্থীরা পড়েছে আরো বেশি বিপাকে। রাতদিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষ গড় ১২ থেকে ১৪ ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছেননা। ভরদুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, মধ্যরাত, ভোররাতে লোডশেডিং হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত। তবে পৌর শহরের বাইরে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরো বেশি নাজুক। ফলে জনসাধারনের মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে দিন দিন অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যশোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সদর দপ্তর সূত্রে জানাযায়, দিনরাত মনিরামপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকছে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা। এর মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় মনিরামপুর পৌরশহরে একটু বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাও আবার এক নাগাড়ে বেশিক্ষন নয়, সর্বোচ্চ এক থেকে দুই ঘন্টা। অন্যদিকে পৌরশহরের বাইরে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং আরো ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ। এ দিকে গত ১৭ আগষ্ট থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। জয়পুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যুৎ কখন আসে তা মানুষ আর খোঁজ খবর রাখেনা।
বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাসপা গরমের মধ্যে জনজীবন নাকাল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া প্রচন্ড গরমের কারনে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এমনটি জানা গেছে দূর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পৌরসভা বালিকা বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে। পৌরশহরের প্রাণী সম্পদ হাসপাতাল এলাকার এইসএসসি পরীক্ষার্থী মাহিমা সুলতানা বলেন, শুধু দিনে নয়, রাতের বেলা আরো বেশি লোডশেডিং হওয়ায় লেখাপড়ায় বেশ বিঘœ ঘটছে। গাংড়া এলাকার মিজানুর রহমান জানান, অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় বিশেষ করে মধ্যরাতে রাতে হাতপাখা নিয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে অবস্থান করতে হচ্ছে।
পৌর শহরের মহাদেবপুরে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠান জেএস স-মিল এন্ড ট্রিটমেন্টপ্লান্টের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারনে প্লান্টের উৎপাদন অনেক হ্রাস পেয়েছে। আবার পৌরশহরেরে আল আমিন মেটালের সত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধির ফলে নির্ধারিত সময়ে মালামাল তৈরী করা সম্ভব হচ্ছেনা। ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তুলসি বসু বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারনে ব্যবসা করা দুরুহ হয়ে পড়েছে।
আর এ ধরনের চিত্র রাজগঞ্জ, নেহালপুর, চিনাটোলাা, কুয়াদা, ঢাকুরিয়া, রোহিতা, হরিহরনগর, মশ্বিমনগর, ঝাঁপা, চালুয়াহাটি, মনোহরপুরসহ উপজেলার প্রতিটি এলাকায়। ফলে জনসাধারনের মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে দিন দিন অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২(মনিরামপুর)এর জেনারেল ম্যানেজার আবদুল লতিফ বলেন, সমিতির আওতাধীন( মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর, নড়াইল, লোহাগড়া, কালিয়া )পিক আওয়ার এবং অফপিক আওয়ারে গড়ে প্রতিদিন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে প্রয়োজন ১৬৫ মেগাওয়াট। কিন্তু তার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থকে পাওয়া যাচ্ছে পিক আওয়ারে ১১০ এবং অফপিক আওয়ারে ৭৫৪ মেগাওয়াট। তার ওপর বেশ কিছু স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে লাইন মেরামত কাজ চলছে। ফলে লোডশেডিং একটু বেশি হচ্ছে।
কিউএনবি/আয়শা/৩১ অগাস্ট ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৪৮