বুধবার (১২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর ত্রিমাত্রিক শক্তির আধুনিক নৌ-ঘাঁটি বানৌজা শের-ই-বাংলা’র কমিশনিং প্রদানকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা সাড়ে ১২টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এ ঘাঁটির কমিশনিং প্রদান করেন। এসময় বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম শাহিন ইকবাল ঘাঁটির প্রধান কমোডর এম মহব্বত আলী’র হাতে কমিশনিং পতাকা তুলে দেন। একই সময়ে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড নির্মিত পেট্রোল ক্রাফট স্কোয়াড্রোন শহীদ দৌলত, শহীদ ফরিদ, শহীদ মহিব্বুল্লাহ, শহীদ আখতার উদ্দিন এবং ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি (এলসিইউ) বানৌজা ডলফিন, তিমি, টুনা ও পেংগুইনেরও কমিশনিং প্রদান করা হয়।
আধুনিক নৌবাহিনী গড়ে তোলায় প্রধানমন্ত্রীর অসামামন্য অবদানের কথা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহিন ইকবাল বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নৌবাহিনীকে স্মার্ট, আধুনিক, শক্তিশালী গড়ার অংশ বানৌজা শেরে-ই-বাংলা ঘাঁটি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ মৎস্য আহরণ, চোরাচালান দমন, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান রোধসহ জনকল্যাণমূলক কাজে ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ফোর্সেস গোল-২০৩০ উন্নয়ন রূপকল্পসহ বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষা প্রদান, সমুদ্রবন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিমান সহায়তা, বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালীর রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে বিএনএস শের-ই-বাংলা’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নে ৫শ’ একর জমি অধিগ্রহণ করে গড়ে তোলা হচ্ছে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর সবচেয়ে বড় এ নৌ-ঘাঁটি। এরমধ্যে ২শ’ একর জমি নৌ-ঘাঁটির এবং ৩শ’ একর জমি নৌ-বিমান ও সাবমেরিন অপারেশনের জন্য বরাদ্দ রেখে উন্নয়ন কাজ চলছে।
২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী সভায় ১ হাজার ৮১.৫০ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন চিফ সেকশন তত্ত্বাবধান করছে। ইতিমধ্যে এ ঘাঁটিতে নির্মাণ করা হয়েছে অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক ভবন, এভিয়েশন সাপোর্ট ও হ্যাঙ্গার সুবিধা সম্বলিত মাল্টিপারপাস শেড, রিপেয়ার ও মেইন্টেন্যান্স ওয়ার্কশপ, এভিয়েশন সুবিধা, ডাইভিং স্যালভেজ এর কমান্ডো পরিচালনা সম্বলিত ইউনিট, নৌ-বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ ও ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। ২০২১ সালের জুনে নৌ-ঘাঁটির উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উন্নয়ন কাজ বাঁধাগ্রস্ত হওয়ায় এখনো উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।


























