বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সাংবাদিক নঈম নিজামসহ ৩ জন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ ২০২৬ সালে আসছে যেসব ফোল্ডেবল ফোন ‘বিশ্বকাপে না খেললে বিসিবির কোনো ক্ষতি হবে না’ নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে টেনমিনিটস ব্রিফ মোহনগঞ্জে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী সুমা আক্তারের সংবাদ সম্মেলন আলাদীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র প্রজন্ম দলের কমিটির উপজেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদন॥ বিজিবি সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৮৮লক্ষ টাকার মাদক আটক॥ নরসিংদীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ ৭ জন গ্রেপ্তার চৌগাছায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

চৌগাছায় দেশি মাছ বিলুপ্তির পথে ফসলে অতি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ।
  • Update Time : বুধবার, ১২ জুলাই, ২০২৩
  • ৯১ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় ফসলে অতি মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার ও নদী-নালা, খাল, বিল, হাওড়-বাওড় শুকিয়ে মুক্ত জলাশয়ের দেশী প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। গ্রাম-গঞ্জের খালে বিলে কিছু দেশি মাছ মিললেও মানুষের চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।

প্রতিনিয়ত কৃত্রিম উপায়ে বিল-বাওড়, ঘের-পুকুরে মাছের চাষ বৃদ্ধি পেলেও প্রকৃত স্বাদ বিনষ্ট হচ্ছে । মাছ চাষসহ ফসলি জমিতে অতি মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে মাছের জীবনচক্র ব্যাপক ভাবে বিপদগ্রস্থ। সরোজমিনে উপজেলার চৌগাছা, পুড়াপাড়া, খড়িঞ্চা, মাশিলা, কচুবিলা, চাঁদপাড়া, সলুয়া, সিংহঝুলি, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, খলশি, পাতিবিলা, হাকিমপুর, নারায়নপুর, ফতেপুর ও আড়পাড়া মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন প্রজাতির চাষের মাছে বাজার ভরে গেছে।

উল্লেখযোগ্য বিদেশি রুই, কাতলা, চিতল, কৈ, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস এবং কার্প প্রজাতির মাছের আমদানীই বেশি। দেশি মাছ খোঁজ করলে কয়েকজন জন মৎস্যজীবী অল্পসংখ্যক মাছ ঝুঁড়িতে নিয়ে বসে আছেন। আর যে দাম চাচ্ছেন তা ন্মিবৃত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। বিক্রেতার দাবি এ সকল ছোট মাছ এখন পাওয়াই যায় না। সারাদিন মাছ ধরে তা বিক্রি করে সংসার চালানো কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে।

খড়িঞ্চা বাজারে মাছ বিক্রেতা রমেন হালদার বলেন, এক সময় আমরা খড়িঞ্চা ও মাধবপুর বাওড় থেকে দেশী মাছ ধরে তা বাজারে বিক্রি করে সংসার চালিয়েছি। বর্তমানে বাওড়ে কার্প জাতের মাছ চাষে অতি মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে মাছের জীবনচক্র ব্যাপক বাঁধা গ্রস্থ হচ্ছে। ফলে বাজারে দেশী মাছের চাহিদা থাকলেও এই ধরনের ঝিয়া, কাকীলা, বেলে,বাইন, পাকাল, গুতেলগচি, মায়া, চিংড়ি, চ্যাং, দেশী মাগুর, পাবদা, পুটি, ট্যাংরা, খলিষা, শিং, রইনাসহ এ জাতিয় মিঠা পানির মাছ জন্মাচ্ছেনা।

ফল্লভপুর গ্রামের মৎস চাষি পরিতোষ মালো জানান, চাষের মাছের ফলন বেশি হলেও ব্যবসায় সফল হতে পারছে না সাধারণ মৎস্য চাষিরা। স্থানীয় বাজারে মৎস্য ব্যাপারীদের কাছে পাইকারি মূল্যে অল্প টাকায় বিক্রয় করতে হচ্ছে এসব মাছ। অপরদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে মাছের খাদ্যের দাম। উৎপাদন খরচের সাথে চাষের মাছের বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় সঠিক মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মাছ চাষিরা।

বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের মৎসজীবি নিমাই হালদার জানান, দেশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে আগে প্রাকৃতিক জলাশয়, মাছ সংরক্ষণ এবং মৎস্য পরিবেশবান্ধব নীতি ও অবকাঠামো গড়ে তোলা দরকার। আর বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মোট প্রায় ২৫০ প্রজাতির মিঠাপানির মাছের মধ্যে ১২টি চরম বিপন্ন এবং ১৪টি সংকটাপন্ন। যদিও চিংড়িসহ ২৯০টি মিঠাপানির মাছ এবং ৫১০টি সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। এসব বিষয় বিশ্লেষণ করলে মাছের যে প্রাকৃতিক জলাশয়, মুক্ত জলাশয় রয়েছে তা আমাদের অযাচিত ও অনৈতিক ব্যবহারের কারণে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তারকে হুমকির সম্মুখীন করছে।

মাছের জাটকা সংরক্ষণে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং মৎস্য অধিদপ্তর বেশ প্রচার প্রচারণা করছে কিন্তু সে বিষয়টি এখনও সাড়া জাগানো সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা সম্ভব হয়নি। দেশীয় মাছ অবশ্যই সংরক্ষণ মুক্ত জলাশয়ে তার অবাধে বিচরণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশি মাছ সংরক্ষণ ও চাষের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থান ও আমিশের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। সেজন্য প্রয়োজন মৎস্যবান্ধব পরিবেশনীতি ও অবকাঠামোর সফল বাস্তবায়ন।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হরিদাস পাল বলেন, বর্তমানে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষেত্র, চলাচলঅনেক খানি হুমকির মুখে। আমরা না জেনে, না বুঝে জাটকা নিধন করি। তাছাড়া জমিতে অতি মাত্রায় বালাইনাশক প্রয়োগ, অপরিকল্পিত বাঁধ দেওয়া, পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন এবং মাছের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত না থাকার কারণে এখন আর পরিচিত অনেক দেশি মাছের সন্ধান মেলে না।

তিনি বলেন, দেশি মাছগুলোকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের আওতায় আনতে হবে। বদ্ধজলাশয়ে দেশি প্রজাতির মাছ যাতে বেশি পাওয়া যায় সেজন্য বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। সেগুলো হলো ধান ক্ষেতে ছোট প্রজাতির মাছ চাষের ব্যবস্থা করা এবং এ ধরনের মাছ সারাবছর পাওয়ার জন্য ধানক্ষেতে মিনি পুকুর তৈরি, মাছের প্রজনন মৌসুমে মাছ না ধরা, ফাঁস জাল ব্যবহার না করা, দেশী মাছ কমানোর জন্য বিষ প্রয়োগ না করা, রুই জাতীয় মাছের সাথে দেশী প্রজাতির মাছের মিশ্র চাষ, জলাশয় এবং পুকুরে দেশি মাছের চাষাবাদের জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যেতেপারে। যদিও বিল-বাওড় ও নদ-নদী পানির আভাবে শুকিয়ে গেছে।আগের মত আর পানি নেই।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১২ জুলাই ২০২৩,/বিকাল ৫:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit