বাদল আহাম্মদ খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত গরমে রেললাইন বাঁকা হয়ে মালবাহী ট্রেন দুর্ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়। উল্লেখিত পথের আন্ত:নগরসহ সব ধরণের ট্রেন বেশ বিলম্বে চলাচল করে। দুর্ঘটনা কবলিতস্থানে ডাবল লাইনের বদলে এক লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করায় ট্রেনগুলো বিলম্বে চলাচল করে।এদিকে দুর্ঘটনা কবলিত মালবাহী ট্রেনের উদ্ধার ও বাঁকা হয়ে যাওয়া রেললাইন মেরামত কাজ করতে প্রায় ২৭ ঘন্টা সময় লাগে। ওই ট্রেনটি উদ্ধার শেষে শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দুর্ঘটনা কবলিত লাইন দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে দু’টি ট্রেন চালানো হয়। তবে ওই এলাকার কাছাকাছি স্থানের আরেক জায়গায় গরমে রেললাইন বাঁকা হয়ে যায়।
অপরদিকে বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনা তদন্তের পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. খায়রুল কবির, মো. সৌমক শাওন, মো. জহিরুল ইসলাম, সিরাজ জিন্নাত ও মো. রাসেল। বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দাড়িয়াপুর এলাকায় অতিরিক্ত গরমে রেললাইন বাঁকা হয়ে মালবাহী (কন্টেইনার) ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটির একটি মোট সাতটি বগির চাকা লাইনচ্যুত হলে চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে ঢাকা অভিমুখী রেলপথ (আপ লাইন) দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে ডাউন লাইন দিয়ে কিছু সময় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় উল্লেখিত রেলাইনের উপর ৫১ ডিগ্রী তাপমাত্রা ছিলো। রেললাইনের উপর সাধারনত ৪৫ ডিগ্রীর উপরে তাপমাত্রা গেলেই ট্রেনের গতি কমিয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত কয়দিন ধরেই এ পথে গতি কমিয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া আছে। পাশাপাশি কচুরিপানা ও পানি দিয়ে রেললাইনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম. ঢাকা-সিলেট পথে বেশিরভাগ ট্রেনই বেশ বিলম্বে চলাচল করে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতী নির্ধারিত সময় থেকে প্রায় আড়াই ঘন্টা বিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া আন্ত:নগর তূর্ণা নিশিথা, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, উপকুল এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম মেইল, ঢাকা মেইলসহ সব কয়টি ট্রেন বিলম্বে চলাচল করে।
বেলা পাঁচটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকাগামী কর্ণফুলি এক্সপ্রেস ট্রেনটি আপ লাইনের পরিবর্তে ডাউন লাইনে যাত্রা বিরতি দেয়। ওই ট্রেনটির গতি কমানোর নির্দেশনা দিয়ে মেরামত হওয়া আপ লাইন দিয়ে চালানো হয়। ওই সময়ে প্রায় চার ঘন্টা বিলম্বে চলতে থাকা নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে যাত্রাবিরতি করতে দেখা যায়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ট্রেন উদ্ধার ও রেললাইন মেরামত কাজ শুক্রবার বেলা সাড়ে চারটার দিকে শেষ হয়। পরে দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা দিয়ে গতি কমিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে দু’টি ট্রেন চালানো হয়। এরই মধ্যে ওই এলাকার আপ রেললাইনের কিছু অংশ আবারো গরমের কারণে বাঁকা হয়ে যায়।’
কিউএনবি/অনিমা/২৮ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ১০:১০