শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

সাবেক ছাত্রলীগ, যুবদল ও ছাত্রদল  নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।    
  • Update Time : সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১০২ Time View
বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহবুদ্দিন বেগ শাপলু ও তার ব্যবসায়ি অংশিদারদের বিরুদ্ধে প্রয়াত সহকর্মীর পাওনা টাকা নিয়ে টালবাহানা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আখাউড়া পৌরসভার মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজলের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রয়াত ছাত্রলীগ নেতা রিফাতের মা পারুল আক্তার।

ওই অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তানজিল শাহ তচ্ছন, সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. ফয়সাল ও সাবেক যুবদল মো. আরিফ নামে আরো তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে ওই অভিযোগে কি পরিমাণ টাকা ‘আত্মসাত’ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত লেখা হয়নি। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শাহবুদ্দিন বেগ শাপলুসহ অন্যান্যরা অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকদেরকে তারা জানান, পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক প্রয়াত রাশেদুল আলম রিফাত তাদের ব্যবসায়িক পার্টনার নয়। তবুও মানবিক কারণে তার বাবার কাছে নগদ এক লাখ ও তার কুলখানিতে আরো এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। এখন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।   

অভিযোগ সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের মো. শাহ আলমের ছেলে রাশেদুল আলম রিফাত পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। গত বছরের ৫ অক্টোবর মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাইর এলাকায় একটি স্প্রিডব্রেকারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ হারান। সড়ক দুর্ঘটনায় সহকর্মীর মৃত্যুর পর কান্নায় বুক ভাসিয়ে ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহবুদ্দিন বেগ শাপলুসহ অভিযুক্তরা। রিফাতের কুলখানিসহ আনুষাঙ্গিক কাজে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন বলে বেড়িয়েছেন শাহবুদ্দিন বেগ। শেষ পর্যন্ত সেই সহকর্মীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শাহবুদ্দিন বেগ শাপলুসহ ব্যবসায়িক অংশিদারদের বিরুদ্ধে।

সূত্র জানায়, টিএন্ডটি এলাকায় একটি জায়গা বিক্রয় করেন রিফাতের বাবা মো. শাহ আলম। জায়গা বিক্রির মধ্যস্থতার কারণে ও পরবর্তীতে জায়গা বিক্রি করলে এর লভ্যাংশ থেকে রিফাতকে টাকা দেওয়ার মৌখিক চুক্তি হয়। বিষয়টি রিফাতের পরিবারকেও অবহিত করা হয়। কিন্তু রিফাতের মৃত্যুর পর তার টাকা না বুঝিয়ে দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে ব্যবসায়িক অংশিদাররা। আখাউড়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইব্রাহিম মিয়া সুজন এ বিষয়ে রিফাতের হয়ে কথা বলেও কোনো সুরাহা করতে পারেননি। বরং রিফাতের পাওনার কথা অস্বীকার করা হয়। 

এদিকে রিফাত মারা যাওয়ার পর তার কুলখানিতে অনেক টাকা নিজেদের পকেট থেকে খরচ করা হয়েছে বলে প্রচার করতে থাকে ছাত্রলীগ নেতা শাপলুসহ অন্যান্যরা। এরই মধ্যে শাপলু ওই টাকা খরচের দোহাই দিয়ে চাকরির বদলির তদবির করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নেয়। নিজের সহযোগিসহ পছন্দের একটি সংগঠনের পিছনে তিনি কিছু টাকা খরচ করেন বলেও এলাকায় চাউর হয়। এসব কারণে রিফাতের পাওনা টাকা না দেওয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসে। শাপলুও হুট করে এত টাকা-পয়সা খরচ করার বিষয়টি অনেকের নজরে চলে আসে। 

রিফাতের পরিবারের একাধিক সদস্য জানায়, তার একেবারে ঘনিষ্টজনেরা নিজেরা কুলখানিতে কিছু টাকা খরচ করে। কিন্তু জায়গা বিক্রির লভ্যাংশের টাকা পরিবারের কারো কাছে দেওয়া হয়নি। এমনটি কাউন্সিলরের মাধ্যমে টাকা চাওয়া হলে তারা বেমালুম অস্বীকার করে। এখন পর্যন্ত তারা রিফাতের পাওনার আনুমানিক ১০ লাখ টাকা দেয়নি।’এ বিষয়ে শাহবুদ্দিন বেগ শাপলু সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘রিফাত আমাদের ব্যবসায়িক অংশিদার নয়। তার বাবার জায়গা বিক্রিতে মধ্যস্থতা করে দেওয়ায় সে জীবিত থাকতে এক লাখ ও তার কুলখানি উপলক্ষে আরো এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। এখন আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইব্রাহিম মিয়া সুজন জানান, ব্যবসায়িক অংশিদার হিসেবে রিফাত ১০ লাখ টাকা পাওনা আছে। অনেক চেষ্টা করেও এ টাকা আদায় করা যাচ্ছে না। একজন প্রয়াত সহকর্মীর টাকা নিয়ে এমন কেন করলো তারা সেটা বুঝতে পারছি না। আমার কাছে অভিযোগ করলে সুরাহা দিতে না পারায় রিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়রের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১০ এপ্রিল ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit