ডেস্ক নিউজ : আইনজীবীদের অর্থের পেছনে ছোটার প্রবণতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, বর্তমানে আইন পড়েই সবার উদ্দেশ্য একটা টাকা আয় করা। এখন একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, কীভাবে খুব দ্রুত অর্থ আয় করা যায়, গাড়ি-বাড়ি করা যায়। এটা ঠিক না। তিনি বলেন, ভালো আইনজীবী হতে হলে অবশ্যই প্রচণ্ড পরিশ্রমী হতে হবে। সৎ থাকতে হবে। আইন পেশায় সহজে টাকা আয়ের অনেক পথ আছে, সেক্ষেত্রে সততার আশ্রয় নিতে হবে।
উদ্দেশ্য যদি ভালো বিচারক ও ভালো আইনজীবী হতে হয়, তাহলে প্রচণ্ড পরিশ্রমী হতে হবে। অসৎ লোক এগুতে পারে অর্থবিত্ত হতে পারে। কিন্তু সমাজে ভালো মানুষ ভালো আইনজীবী হিসেবে নিজেদের তৈরি করতে পেরেছে এমন দৃষ্টান্ত নেই, বলেন তিনি। আইনের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সৎ ও পরিশ্রমীদের আমরা জুডিশিয়ারিতে নেব। যে বিচার বিক্রি করবে, তাদের বিচারকের আসনে বসানো যাবে না। যারা পরিশ্রমী নয়, তাদেরও বসানো যাবে না। বসাতে হবে অবশ্যই সৎ এবং পরিশ্রমীদের। যারা গ্রাম থেকে বিচার চাইতে আসা মা বয়সী, বাবা বয়সীদের দিকে দরদ দিয়ে তাকাবে। তাদের সঠিক বিচার দেবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরাস উদ্দিন বলেন, আমরা আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর পঞ্চাশজন শিক্ষার্থীকে আইন বিভাগে ভর্তি নিতে পারি। এসব শিক্ষার্থীদের কয়েক ধাপে যাচাই-বাছাই করে ভর্তি নেওয়া হয় শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনেক তদবিরের সুপারিশ এলেও সেরা পঞ্চাশজনকে ভর্তি করা হয়। বাংলাদেশ এমন একটা সময় অতিবাহিত করছে যেখানে সত্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে; এটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের এমন আগ্রহ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে পঞ্চাশ আসনের পরিবর্তে সত্তরটি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা গেলে ভালো হতো।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম এম শহীদুল হাসান এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একরামুল হকসহ বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির ডিন এবং শিক্ষকরা।
কিউএনবি/আয়শা/০৮ এপ্রিল ২০২৩,/বিকাল ৫:১৫