শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

লালমনিরহাটে চুরির অপবাদে কিশোরের হাত-পা বেঁধে প্লায়ার্স দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১০৯ Time View

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : আমি চুরি করিনি, আমি চুরি করিনি এ কথা বলার পরও হাত-পা বেঁধে প্লায়ার্স দিয়ে শরীরের চামড়া টেনেছে আমার। এমনকি হাতে পায়ে ধরলে ক্ষমা না করে বাঁশ রেখে ডলা দিয়েছে। আমার নানি ও মামা ছাড়া কেউ নেই। আমি এই নির্যাতনের বিচার চাই। এভাবে অনুরোধ ও হাতে পায়ে ধরেও রক্ষা পাইনি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার জামিরবাড়ি গ্রামের (১৪) বছরের কিশোর সোহান মিয়া। মিথ্যে টিউবয়েলের সকেট চুরির অপবাদে রশি দিয়ে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালায় সোহানকে। এ ঘটনায় ৬/৭ জনকে আসামী করে কালীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন সোহানের মামা আনিছার রহমান।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল)  বিকেলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম গোলাম রসুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার (২ এপ্রিল) দুপুরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সোহান মিয়াকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগে জানা গেছে, সোহানের মা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ৫-৬ মাস বয়সী সোহানকে রেখে নিখোঁজ হন। এরপর তার বাবাও বিয়ে করে অন্যত্র চলে যায়। পরে মামা আনিছার রহমান সোহানকে নিজের কাছে রাখেন। বর্তমানে সোহান কখনো গ্রামে আইসক্রিম বিক্রি করে কখনো বা ঘাস বিক্রি করে আয় করে মামার বাড়িতেই থাকেন। সম্প্রতি ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিল সে। সেখান থেকে ফেরার পথে রোববার (২ এপ্রিল) গ্রামের মেঠোপথ ধরে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল সোহান। পথিমধ্যে ব্যাঙ্গেরহাট এলাকায় পৌঁছালে রাস্তায় টিউবয়েলের একটি সকেট পড়ে থাকতে দেখে হাতে নেয় সেটি। এ সময় স্থানীয় ইসমাইলের ছেলে ওহাব মিয়া, সুভাসের ছেলে তাপস ও আজিজুলের ছেলে রানা মিয়াসহ কয়েকজন তাকে চোর সন্দেহে আটক করে

পার্শ্ববর্তী একটি মাছের প্রজেক্টে নিয়ে সোহানকে রশিতে বেঁধে মারপিট করেন তারা। একপর্যেয় প্লায়ার্স দিয়ে তার শরীরের চামড়া টান দেন। সোহানকে বাঁশ ডলা (দুই বাঁশ দিয়ে শরীর চেপে ধরা) দেয় নির্যাতনকারীরা। এ সময় পাশে থাকা কেউ একজন ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে খবর পেয়ে কিশোর সোহানের মামা আনিছার রহমান ভোটমারী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আহাদুল হোসেনসহ কয়েকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে ভর্তি আহত সোহান মিয়া বলে, টিউবয়েলের একটি সকেট রাস্তায় পড়ে দেখে আমি হাতে তুলে নেই। ওই সময় আমাকে কয়েকজন চোর আখ্যা দিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি মাছের প্রজেক্টে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে মারপিট করে। আমি চুরি করেনি, এ কথা বলার পরও হাত-পা বেঁধে প্লায়ার্স দিয়ে শরীরের চামড়া টেনেছে আমার। এমনকি হাতে পায়ে ধরলে ক্ষমা না করে বাঁশ রেখে ডলা দিয়েছে। আমার নানি ও মামা ছাড়া কেউ নেই। আমি এই নির্যাতনের বিচার চাই।

সোহানের মামা আনিছার রহমান অভিযোগ করে বলেন, ব্যাঙ্গেরহাট এলাকার ইসমাইল হাজীর ছেলে ওহাব মিয়া, স্কুলশিক্ষক তাপস কুমার ও রানা মিয়াসহ বেশ কয়েকজন মিলে একটি মাছের ঘেরে নিয়ে আমার ভাগ্নের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। তাকে ছোট থেকে আমি বড় করেছি। নিজের পায়ে দাঁড়াতে এই বয়সে আইসক্রিমের ব্যবসা ধরিয়ে দিয়েছি। সামান্য জিনিস নিয়ে এভাবে নির্যাতন করবে আমি মেনে নিতে পারছি না। আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না।

তিনি আরও বলেন, আমি ন্যায়বিচার পেতে সোমবার (৩ এপ্রিল) থানায় তিনজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আশা করছি পুলিশ দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করবে। কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম গোলাম রসুল জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। বিষয়টি ফেসবুকে আসার কারণে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

কিউএনবি/আয়শা/০৪ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৮:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit