পরে মন্দিরের জায়গাটির স্থান সংকোলান না হওয়ায় ফুলু রানী মন্দিরকে তার লিজকৃত জায়গা দিয়েদেন। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষ আইনঅনুযায়ী ফুলু রানীর জায়গাটি মন্দিরের নামে নেয়ার জন্যে আইনি বিধি মেনে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক মন্দির কর্তৃপক্ষের আবেদনকে উপেক্ষা করে গত ৭ ফেব্রুযারী মন্দিরের দখলকৃত জায়গাটি প্রতিবেশি অনিল মল্লিককে পুন:রায় লিজ প্রদান করেন। এর পর থেকেই ক্ষুব্দ হয়ে উঠে সনাতন ধর্মের কয়েক হাজার নারী পুরুষ। তারা এলাকা ভিত্তিক সভা সমাবেশ করেন। পরে আজ সকালে মন্দিরের জায়গা মন্দিরকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিল সহ মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া পূজাউদযাপন পরিষদের জাতীয় সদস্য সুজন দত্ত বলেন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব পাইকপাড়া শ্রীশ্রী কৈবল্যভূম আশ্রম এর ৪ শতক জায়গা ভূমির মালিক ফুলু রানী মল্লিক জায়গাটি মন্দিরকে দান করেছেন এবং জায়গাটি মন্দিরের দখলে ছিল। এই জায়গাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মন্দির ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা না করে এক ব্যক্তির কাছে লিজ দিয়েছেন। আমরা চাই সেই লিজ বাতিল করে মন্দিরের জায়গা মন্দিরকে ফিরিয়ে দেয়া হোক।
গৌরি রাণী রায় নামে আরেক ভক্ত বলেন, আমাদের মন্দির জায়গা সংকোলান না হওয়ায় পাশের জায়গাটি আমাদের প্রয়োজন। আমরা যতদিন এই জায়গা না পাবো আমরা আন্দোলন করে যাব। যেকোনো মূল্যে আমাদের জায়গা ফিরিয়ে দিতে হবে। শিল্পী বনিক নামে আরেক ভক্ত বলেন, মন্দিরের নামে যে জায়গা ছিল সে জায়গা পাশের এক লোক লিজ নিয়েছেন। আমরা আমাদের মন্দিরের জায়গা পুনরায় ফেরত চাই। জেলা প্রশাসক থেকে ইতোপূর্বে লিজ গ্রহিতা ফুলুরানী বলেন, আমার উপর প্রতিবেশিরা অত্যাচারের কারণে আমি এই জায়গা রামঠাকুর মন্দিরকে দিয়ে দিয়েছি। আইনগত ভাবে আমার লিজ কেউ কাটতে পারেন না। এখন জেলা প্রশাসক আমার লিজ কেটে অন্য একজনকে লিজ দিয়েদিয়েছেন। আমার লিজের সময় শেষ হওয়ার আগেই অন্যজনকে লিজ দেয়া জেলা প্রশাসকের ঠিক হয়নি।
শ্রীশ্রী কৈবল্যভূম আশ্রমের সভাপতি রঞ্জন চৌধুরী বলেন, গত ৩০ জানুয়ারী বিভাগীয় কমিশনার চিঠি দিয়ে তলব করেছেন। এই চিঠি পাওয়ার পর থেকে অশুভ শক্তির তৎপতরা বেশি বেড়ে গেছে। তারা ২-৭ তারিখের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন করে তৃতীয় ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দিয়েছেন। যেটা আইন বিধি সম্মত হয়নি। কারণ আমরা এই জায়গার জন্য
আবেদন করেছিলাম। আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। আমরা মনে করি এটি মন্দির বিরোধী শক্তি প্রতিফলন হয়েছে। আমরা চাই আমাদের মন্দিরের জায়গা মন্দিরের নামে দেয়া হোক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদপন পরিষদের সভাপতি সোমেষ রাঞ্জন রায় বলেন, ফুলু রানী রায় যাদের অত্যাচারে শেষ বয়সে এসে মন্দিরের নামে জায়গাটি দিয়েছেন সেই অত্যাচারীদের নামেই জায়গার লিজ দেয়া হয়েছে। জায়গাটি মন্দিরের দখলে ছিল। তাছাড়া পূর্ব পাইক পাড়ায় কোনো সামাজিক সভা বা মাদক বিরোধী সভা করার জন্যও কোনো জায়গা নেই। সেইসব সভা অনুষ্ঠিত হতো এই মন্দিরে। মন্দিরের বিরুদ্ধে গিয়ে জেলা প্রশাসক যে কাজটি করেছেন সেটি সঠিক হয়নি। আগামী ১৫দিনের মধ্যে মন্দিরের জায়গা মন্দিরকে বুঝিয়ে দেয়া না হলে বৃহৎ আন্দোলনগড়ে তুলা হবে বলে তিরি হুশিয়ারী উচ্চারন করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মুহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন,মন্দিরের জায়গা লিজ নিয়ে এখানে মানববন্ধন করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারন মানুষ। মানববন্ধনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের দাবীর বিষয়টি আমরা আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো।