শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

একাই পুরো পরিবারের অশান্তির কারণ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ Time View

খোরশেদ আলম বাবুল শরীয়তাপুর প্রতিনিধি : ৫৩ বছর বয়সী ইউরোপ প্রবাসী ডিএম গিয়াস উদ্দিন শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার মানাখান গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী দেওয়ানের পুত্র। ছুটিতে দেশের মাটিতে ফেরার উদ্দেশ্য হলো পুরো পরিবারে অন্যান্যদের শালিস দরবার ও মামলার মুখোমুখি দাঁড় করানো। কখনও জমির সীমানা নিয়ে শালিস দরবার করেন এই ব্যক্তি। আবার ভাইয়ের বাড়িতে তালা লাগিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করা, বসত ঘর দখল করা, মামলা দিয়ে হয়রানী করাও তার নিত্য দিনের কাজ।

এবার দেশে ফিরে তিনি অপর ভাই ওয়াছ উদ্দিন দেওয়ানের বসত ঘরে তালা ঝুলিয়েছেন। অবশিষ্ট কয়েকটি কক্ষে তিনি বসবাস শুরু করেছেন। একই সাথে তিনি বোন রাজিয়া বেগমের নামে আইনী (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠিয়েছেন। শরীয়তপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভাই আলাউদ্দিন দেওয়ান, ওয়াছ উদ্দিন দেওয়ান সহ অন্যান্য ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে ৮৭৯/২০২৫ নম্বর মামলাও করেছেন। এক কথায় পরিবারের উপর ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে রয়েছেন তিনি এমন দাবী করেন অন্যান্যরা।

পরিবার ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, আউয়ুব আলী দেওয়ান প্রায় ১৬ বছর পূর্বে মৃত্যু বরণ করেন। তিনি চার ছেলে, চার মেয়ে ও স্ত্রীসহ নাতি-নাতনিদের রেখে যান। চার ছেলেই ইউরোপ প্রবাসে থেকে অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন। মেয়েদের ভালো পরিবারে বিবাহ হয়েছে। তার জীবদ্দশায় ছেলে ওয়াছ উদ্দিনের টাকায় তিনি একটি ১ তলা বিশিষ্ট দালান করে দিয়েছেন। অন্যান্য সন্তানদেরও সম্পত্তির অংশ বুঝিয়ে দিয়েছেন। পিতার মৃত্যু পরবর্তী ছেলে ডিএম গিয়াস উদ্দিন লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে পড়েছেন। মাঝে মধ্যেই বাড়ির সীমানা পরিবর্তন করে, অন্য ভাইয়ের জমি ও বাড়ি দখল করেন। এমনি ভাবে তিনি পরিবারে অশান্তির কারণ হয়ে উঠেছেন।

গিয়াস উদ্দিনের মা ইয়ারুন্নেছার কথা বলতে ও শুনতে কষ্ট হয়। তবুও সে জানায়, দালান ওয়াস উদ্দিন করেছে। ওয়াছ উদ্দিনের ভাড়াটেদের গিয়াস উদ্দিন বের করে দিয়ে তালা মেরেছে। বোন রাজিয়া বেগম জানায়, ১ বছর পূর্বেও নতুন করে জমির মাপ হয়েছে। ১০ ফুট জায়গাও নিয়েছে রাস্তার জন্য। ওয়াছ উদ্দিনের এই বাড়ির ভাড়াটে বের করে দিয়ে গিয়াস উদ্দিন তালা দেয়। অন্যান্য রুমে সে থাকে। আমার বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় ওয়াছ উদ্দিন এই দালান বানায়। এখন গিয়াস উদ্দিন দাবী করে এই দালান তৈরীতে তার অবদান রয়েছে। তাই বাব বার দখল করে আবার মামলা মোকদ্দমা করে।

ভাগ্নে রিয়াদ হোসেন জানায়, মামা গিয়াস উদ্দিন কি চায় সেও জানে না। সকলের সামনে জমি পরিমাপ করে খুটি দিয়েও তা অস্বীকার করে। কারণে অকারণে মামলা করে হয়রানী করে। এই পরিবারের এক মাত্র অশান্তি মামা গিয়াস উদ্দিন। প্রতিবেশী ছাবের আলী মোল্লা বলেন, ওদের বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় এই দালান ওয়াছ উদ্দিন উঠিয়েছে। গিয়াস উদ্দিনসহ অন্যান্যদের আলাদা আলাদা ভিটি ও ঘর রয়েছে।

গিয়াস উদ্দিনের সমর্থিত রত্না বেগম জানায়, তাদের বাবায় জীবিত থাকা অবস্থায় এই দালান তৈরী হয়েছে। দালান তৈরীর সমস্ত টাকা পয়সা ওয়াছ উদ্দিনের। জমি ভড়াট করার সময় হয়তো কিছু টাকা গিয়াস উদ্দিন দিয়েছে বলে জানেন তিনি। ডিএম গিয়াস উদ্দিন জানায়, আমার বাবার দেখানো জায়গায় দালান তৈরীর সরঞ্জাম রেখে চাকরি বাচানোর জন্য ইতালী চলে যাই। পরবর্তীতে সেই সরঞ্জাম দিয়ে এই দালান তৈরী হয়। এজন্যই এই দালানে আমি বসবাস শুরু করেছি। আমার অজান্তে এই দালান তৈরীতে ওয়াছ উদ্দিনের কিছু অবদান থাকতেও পারে। তবে আমার অবদানই বেশী।

কিউএনবি/আয়শা/২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit