বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম

নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের মুখে বাংলাদেশ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় গণভোট এবং সংসদ নির্বাচনের পর এক নতুন রাজনৈতিক সংকটের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত গণভোটে দেশের ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোটার সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে এই গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিজয়ী দল বিএনপি এবং তাদের একসময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে প্রকাশ্য বিভেদ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এই বিরোধ চূড়ান্ত রূপ নেয়। প্রথাগতভাবে সংবিধান রক্ষার শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা ‘সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল’-এর সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। উল্লেখ্য, জুলাই সনদে বর্ণিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্য এই কাউন্সিল গঠন করা বাধ্যতামূলক। বিএনপির এই অবস্থানের কারণে কাউন্সিলের বৈধতা এবং সংস্কার প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই বিরোধের মূলে রয়েছে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন প্রক্রিয়া। জুলাই সনদে বিদ্যমান ৩৫০ আসনের জাতীয় সংসদের পাশাপাশি ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি চায় এই উচ্চকক্ষের নির্বাচন হোক ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ পদ্ধতিতে। এতে করে প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী দলগুলো আসন পাবে। অন্যদিকে, বিএনপি বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভিত্তিক পদ্ধতি ধরে রাখতে আগ্রহী, যা তাদের বিশাল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে আরও সংহত করতে সাহায্য করবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারা জুলাই সনদের সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও এই কাউন্সিলকে এখনই বৈধ মনে করছেন না। তাদের মতে, নির্বাচিত সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পরেই এই কাউন্সিল আইনি ভিত্তি পাবে। অন্যদিকে, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা বিএনপির এই অবস্থানকে সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ তৈরি করে। এতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ নির্ধারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির মতো ৮০টিরও বেশি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। 

এখন এই সংস্কারগুলো ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও বড় দলগুলোর মধ্যকার এই মতভেদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:১৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit