বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

চৌগাছায় দুই দিনের খেঁজুর গুড় পাটালীর মেলা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩১১ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের যশ খেঁজুরের রস। রস ও গুড়ের সাদ আস্বাদনে খেঁজুর গাছের যেন জুড়ি নেই! প্রতিবছর শীতকাল এলেই গাছিরা তাদের মেরুদন্ড শক্ত করে খেঁজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করেন। হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন ভোরে গুড় উৎপাদানের কাজে নিয়োজিত থাকেন গাছিরা। কিন্তু গাছখোকোদের দৌরাত্ব ও নানা কারণে মাতৃতুল্য খেঁজুর গাছ প্রতিদিন কেটে ফেলা হচ্ছে। ধীরেধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই গাছ। গুড় উৎপাদনের সাথে নিয়োজিত গাছিদের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। এই অবস্থায় যশোর জেলার ঐতিহ্য খেঁজুর গাছ রক্ষায় চৌগাছা থেকে শুরু হয়েছে আন্দোলন।

সেভ দ্য র্ট্যাডিশন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট প্রথম পর্যায় শুরু করলে তা নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। এই আন্দোলন আরও বেগবান করতে উপজেলা চত্বরে দুই দিন ব্যাপী গুড়-পাটালীর মেলার আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার ১৬ জানুয়ারী সকালে উপজেলা চত্বরে ফিতা কেটে এই মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ড. এম মোস্তানিছুর রহমান ও নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ, রেজিস্ট্রি কর্মকর্তা মোস্তাক হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইসতিয়াক আহমেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেণ বিশ্বাস, জেলা পরিষদ সদস্য দেওয়ান তৌহিদুর রহমান, পৌর মেয়র নূর উদ্দীন আল মামুন হিমেল, ইউপি চেয়ারম্যান হামিদ মল্লিক, শাহীনুর রহমান, আবুল কাশেম, হবিবর রহমান হবি, এস এম মমিনুর রহমান, আতাউর রহমান লাল, নূরুল কদর, প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, সাধারণ স¤পাদক জিয়াউর রহমান রিন্টুসহ কয়েকশ গাছি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

খেঁজুর গুড়ের মেলায় প্রায় ২শ জন গাছি তাদের উৎপাদিত গুড়-পাটালি নিয়ে মেলায় দোকান বসান। মেলায় অংশগ্রহণকারী গাছি আনোয়ার হোসেন আনার বলেন, এখন আর আগের মত খেঁজুর গাছ নেই। কোন রকম বাপদাদার এই পেশা আমরা ধরে রেখেছি। তিনি বলেন, খেঁজুর গাছ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। গাছিদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করলে এই পেশা ধরে রাখা সম্ভব। ভাদড়া গ্রামের গাছি আমির হোসেন, পাতিবিলার আনোয়ার মোল্লা, লস্কারপুরের মগরেব আলী, পাতিবিলার দাউদ হোসেন, মাধবপুরের আজিজুর রহমান, সাদিপুরের ইয়াকুব আলীসহ গাছিরা জানান, খেঁজুর গাছ নিধন বন্ধ করলে গুড় উৎপাদন বাড়বে। এছাড়া প্রতিবছর অন্যান্য গাছের সাথে খেঁজুর গাছ রোপন করার জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা করতে হবে।

মেলার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানা বলেন, যশোর জেলার ঐতিহ্যের সাথে খেঁজুরের রস-গুড় যুক্ত রয়েছে। এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আমরা এই মেলার আয়োজন করেছি। মেলার শেষ দিন অংশগ্রহণকারি সকল গাছিদের সম্মানিত করা হবে। সেরা গুড় উৎপাদক গাছিকে পুরস্কৃত করা হবে। এই মেলার মাধ্যমে খেঁজুর গাছের গুরুত্ব আমরা তুলে ধরছি। এ থেকেআমরা শিক্ষা নেব। জনগন সচেতন হয়ে খেঁজুর গাছ নিধন করা থেকে বিরত থাকবে।
সেভ দ্য র্ট্যাডিশন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবুবকর বলেন একদশক আগেও খেঁজুর গাছের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখের বেশী। বর্তমানে প্রায় ৫৫ হাজার খেঁজুর গাছ রয়েছে। এছাড়া এক দশক আগেও ৪ থেকে ৫ হাজার গাছি ছিলেন। বর্তমানে গাছিদের সংখ্যা মাত্র ৮শ ৫০। খেঁজুর গাছ রক্ষা, গাছিদের উন্নয়ন ও গুড়বাজারজাতের নিশ্চয়তায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গুড়ের মেলাটি বেশ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৬ জানুয়ারী ২০২৩/রাত ১০:৫৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit