ডেস্ক নিউজ : যেসব দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত, তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা। শুধু আল্লাহপ্রেমীদের এই মহাসমাবেশে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশ্বের বহু দেশের মানুষ বাংলাদেশে ছুটে আসে। বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা তাবলিগের অনুসারীদের কাছে বাংলাদেশ বেশ পরিচিত নাম। বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন ইজতেমাকে কেন্দ্র করে শুধু টঙ্গী এলাকাতেই লেনদেন হয় প্রায় শত কোটি টাকা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে অতীতে ইজতেমায় মুসল্লিদের উপস্থিতির সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর ইজতেমায় অবস্থানকারী মুসল্লিরা দাবি করছেন, এবার মুসল্লির সংখ্যা অন্য বছরের তুলনায় বেশি। ইজতেমার নির্ধারিত মাঠ ছাড়িয়ে মানুষ তাঁবু গেড়েছে সড়কের পাশে। ইজতেমার স্থায়ী টয়লেটের ছাদগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। দূর-দুরান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা যেখানে কোনো বসার জায়গা পাচ্ছে সেখানেই বসে পড়ছে।
আমরা যদি ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সংখ্যা ৫০ লাখ না ধরে আনুমানিক ৩০ লাখও ধরি, আর প্রতিটি মানুষের খাবারের খরচ দৈনিক ২৫০ টাকা ধরি। তাও প্রতিদিন ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা শুধু খাবারের পেছনেই খরচ করছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। যদিও বাস্তব হিসাব হয়তো শত কোটি টাকায় ঠেকবে।
ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা সাধারণত বাজার করেন টঙ্গী ও টঙ্গীর আশপাশের এলাকা থেকে। সেই হিসাবে বলা যায়, এই বিশাল অঙ্কের লেনদেন টঙ্গী এলাকাতেই হয়। শুধু খাবারই নয়, ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের পরিবহন খরচ হিসাব করলেও কয়েক শ কোটি টাকায় ঠেকবে। তা ছাড়া দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের সময়ে ইজতেমায় আগত বিদেশি মেহমানদের মাধ্যমে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসবে বলেও আশা করা যায়।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘বিদেশ থেকে যারা ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে আসছেন, তারা অবশ্যই বৈদেশিক মুদ্রা নিয়েই আসছেন, এতে করে আমাদের দেশে চলমান বৈদেশিক মুদ্রা সংকট কিছুটা হলেও কমবে। এখানে আগত প্রতিটি বিদেশি মেহমানই প্রতিদিন ন্যূনতম পাঁচ ডলার হলেও খরচ করবেন, কেনাকাটা করবেন, যা সামগ্রিকভাবে চিন্তা করলে অনেক বড় অঙ্কে দাঁড়াতে পারে।’
এছাড়া ইজতেমাকে কেন্দ্র করে এখানে বিভিন্ন স্টল গড়ে ওঠে। অনেক বড় বড় কারখানা ইজতেমাকে কেন্দ্র করেই কোটি কোটি টাকার পণ্য তৈরি করে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আকর্ষণীয় জিনিস এখানে সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা প্রিয়জনদের জন্য এখন থেকে শপিং করে নিতে পছন্দ করে। বিদেশি মুসল্লিরাও তাদের প্রিয়জনদের জন্য বাঙালি সংস্কৃতির জিনিসপত্র সংগ্রহ করে। শুধু ইজতেমায় আগত মুসল্লিরাই নন, ঢাকা শহরের অনেক মানুষ শুধু কেনাকাটার জন্যই ওই স্টলগুলোতে যায়, ফলে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ওই স্টলগুলোতেও লেনদেন হয়।
মো. রুহুল আমিন আরো বলেন, ‘বিদেশ থেকে আগত মেহমানরা দেশের অনেক পণ্যের সঙ্গেও পরিচিত হয়, যা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।’ বিদেশি মেহমানদের বাংলাদেশি পণ্যের সঙ্গে পরিচিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলে জানান তিনি। নোয়াখালী থেকে ইজতেমায় আগত মুসল্লি নুরুল হক বলেন, ‘আমি ইজতেমা থেকে এবার পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের একটি কম্বল কিনেছি, আমার কিছু কেনাকাটা বাকি আছে।’খুলনা থেকে আগত সাআদ আহমদ বলেন, ‘ইজতেমায় এসেছি কিছু দ্বিনি কথা শোনার জন্য, যেহেতু এখানে অনেক আনকমন জিনিস পাওয়া যায়, প্রিয়জনদেরও কিছু চাহিদা থাকে, তাই শেষ মুহূর্তে ১০-১৫ হাজার টাকার কেনাকাটা করার ইচ্ছা আছে।’সর্বোপরি, বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে ইজতেমাকেন্দ্রিক অর্থনীতি নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ জানুয়ারী ২০২৩/বিকাল ৪:৪০