শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ২৫৩ Time View

ডেস্কনিউজঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষকের গাড়ি চাপায় এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত যানবাহন বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। এতে সংহতি জানিয়েছেন বেশকিছু সাধারণ শিক্ষার্থীও।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে মশাল হাতে মর্মান্তিক এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং ছাত্র ইউনিয়ন।

এতে সাধারণ শিক্ষার্তীরাও যোগ দেয়। বিক্ষোভের আগে সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদ। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।

বিক্ষোভ মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্র অধিকারের ঢাবি শাখার সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি চলাচলের জন্য সঠিক কোনো নিয়ম মানা হয় না। গাড়ি উল্টোপথে আসতেছে কি না তা দেখার জন্য কোনো নিরাপত্তারক্ষী নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু আজকে যে একজন নারীকে গাড়ির নিচে পিষে হত্যা করা হয়েছে সেই ঘটনায় ঢাবি প্রক্টর দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এই হত্যাকাণ্ডের দায় বিশ্ববিদ্যালয়কে অবশ্যই নিতে হবে।

ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আদনান আজিজ চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজকে যে দুর্ঘটনা হইছে এটাকে একটা ‘হত্যা’ হিসেবে গণনা করতে হবে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং একজন সাবেক শিক্ষকের দ্বারা এক নারীকে হত্যা করা হয়েছে। ওই শিক্ষক যদি নারীকে গাড়ির নিচে চাপা পড়তে দেখে গাড়ি থামিয়ে দিতো তাহলে সেটি দুর্ঘটনা হতো কিন্তু তিনি সেটা করেননি। বরং তিনি ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে নীলক্ষেত পর্যন্ত নিয়ে যায়। এর দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্য বোঝা যায়। এটা মার্ডার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এই হত্যা ঘটিয়েছে এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে যে আমরা এটার জন্য নিন্দিত ও লজ্জিত।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরের রাস্তাগুলোতে স্পিড লিমিট লেখা থাকবে। স্পিড লিমিট কেউ ক্রস করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রাস্তা খোলা থাকতে পারে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি চলাচল করতে পারে বাকিসব রাস্তা বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর রিকশা চলাচল করবে যেগুলোতে ট্যাগ লাগানো থাকবে যে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিক্সা।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বেশ কয়েকটি দাবি জানায় ছাত্র অধিকার পরিষদ। দাবিগুলো হচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসাতে হবে। কোনো প্রাইভেট গাড়ি বা অতিরিক্ত যানবাহন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে ব্যাপারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে। এবং যে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে উদাসীন সেই প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

কিউএনবি/বিপুল/০২.১২.২০২২/ রাত ১০.১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit